বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) ২০২৪ সালে পদ্মা সেতু থেকে সর্বোচ্চ ৮৩৮.৫৬ কোটি টাকা আয় করেছে। পদ্মা বহুমুখী সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ নিলয় জানান, ৬৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৭৮টি যানবাহন থেকে এই টোল আদায় করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২২ সালের ২৫ জুন যান চলাচলের জন্য ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি খোলার পর থেকে বিবিএ ১ কোটি ৫৮ লাখ ৮ হাজার ৯৬৮টি যানবাহন থেকে মোট ২ হাজার ৬১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা আয় করেছে।

বিবিএ এখন পর্যন্ত মেগা প্রকল্প নির্মাণের জন্য সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ঋণ পরিশোধের জন্য ১০ কিস্তিতে ১ হাজার ৫৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা অর্থ বিভাগকে পরিশোধ করেছে।

আরও পড়ুন সংস্কারের পদচিহ্ন রেখে যাবো : অর্থ উপদেষ্টা

সেতু বিভাগ ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল রাজস্ব থেকে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য নেয়া ঋণ পরিশোধ করা শুরু করে। 

পদ্মা বহুমুখী সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ নিলয় বলেন, আমরা সাধারণত সরকারকে প্রতি অর্থবছরে চারটি কিস্তি প্রদান করি এবং প্রতি কিস্তিতে ১৫৭ কোটি ৭১ কোটি টাকা দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের ১৪ জুন একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায় হয়েছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ, যখন রেকর্ড সংখ্যক ৪৪ হাজার ৩৩টি যানবাহন সেতুটি অতিক্রম করেছিল।বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে মোট ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মাসেতু নির্মাণ করেছে। এই অর্থের মধ্যে সরকার ৩০০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে এবং বাকি ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা এক শতাংশ সুদে ঋণ হিসেবে দেয়া হয়েছে বিবিএকে।২০১৯ সালের ২৯ আগস্ট অর্থ বিভাগের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে, বিবিএ ৩৫ বছরের মধ্যে ১৪০টি কিস্তিতে এই ঋণ পরিশোধ করবে। পরিশোধের সময়সূচী অনুযায়ী, প্রতি অর্থবছরে সর্বনিম্ন ৬৩৪ কোটি টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা দিতে হবে।