ভিসা বন্ডের অর্থ বিদেশে পাঠানো যাবে ব্যাংকের মাধ্যমে

ছবি : সংগৃহীত
১৪ মে ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
বিদেশে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ‘ভিসা বন্ড’ বা ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট’ জমা দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে দেশের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেই বিদেশে এই অর্থ পাঠানো যাবে। সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বিদেশি ভিসা পাওয়ার শর্ত হিসেবে ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা দিতে বাধ্য হলে, ব্যাংকগুলো সরাসরি আবেদনকারীর পক্ষে ওই অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারবে।
কোটিপতি গ্রাহকদের আমানত কমছে
বিদেশে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও সহজ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো আবেদনকারীদের নামে আন্তর্জাতিক বা ভার্চুয়াল কার্ড ইস্যু করতে পারবে, যেখানে প্রয়োজনীয় অর্থ আগে থেকেই লোড করা থাকবে। এছাড়া, যাদের আগে থেকেই আন্তর্জাতিক কার্ড রয়েছে, তারা ভ্রমণ কোটার (Travel Quota) আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ লোড করে এই সুবিধা নিতে পারবেন। তবে এই অর্থ শুধুমাত্র ভিসা বন্ড বা সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটি ডিপোজিট পরিশোধের কাজেই ব্যবহার করা যাবে।
সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাব, রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাব কিংবা এসব হিসাবের বিপরীতে ইস্যুকৃত আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমেও এই সুবিধা গ্রহণ করা যাবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ যেসব দেশে ভিসা প্রক্রিয়ায় আর্থিক গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি ডিপোজিটের প্রয়োজন হয়, সেখানে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য কাজগুলো আরও দ্রুত সম্পন্ন হবে।
ভিসা বন্ড হলো বিদেশে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জামানত বা আর্থিক গ্যারান্টি হিসেবে জমা দেওয়ার একটি আইনি ব্যবস্থা। কোনো আবেদনকারী ভিসার শর্ত মেনে নির্ধারিত সময় শেষে নিজ দেশে ফিরে আসবেন- এই নিশ্চয়তা দিতেই অনেক দেশ এ ধরনের ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিট চেয়ে থাকে। ভিসার শর্ত পূরণ হলে বা মেয়াদ শেষ হলে সাধারণত এই অর্থ আবেদনকারীকে ফেরত দেওয়া হয়।


