ই-লোন কী, কীভাবে নেওয়া যায়?

ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলেই সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে—ব্যাংকে যাওয়া, ফরম পূরণ করা, কাগজপত্র জমা দিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো এবং টাকা হাতে পেতে দিনের পর দিন অপেক্ষা করা। তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে সেই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এখন মোবাইল ফোনের কয়েকটি ক্লিকেই ঋণের আবেদন, যাচাই-বাছাই, এমনকি ঘরে বসেই ঋণের টাকা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই ব্যবস্থাকেই বলা হচ্ছে “ই-লোন” বা ডিজিটাল ঋণ।

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৭ মে ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

বাংলাদেশেও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে এ ধরনের সেবা সম্প্রসারণ করছে। গত ১১ মে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা বা সার্কুলার জারি করেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—ই-লোন আসলে কী, এটি কীভাবে কাজ করে, কারা নিতে পারে এবং এতে কী ধরনের সুবিধা বা ঝুঁকি রয়েছে।


১৮ দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি

ই-লোন কী?


সাধারণভাবে, ই-লোন হলো এমন একটি ঋণসেবা যেখানে আবেদন থেকে অনুমোদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই অনলাইনে সম্পন্ন হয়। গ্রাহককে সরাসরি ব্যাংকের শাখায় যেতে হয় না। ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়ে ঋণের আবেদন করা যায়।

সাধারণত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের আর্থিক তথ্য, লেনদেনের ইতিহাস, আয় ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থায় সময় কম লাগলেও তথ্যের নিরাপত্তা এবং ঋণের শর্ত ভালোভাবে বোঝার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশে কি এটি নতুন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ই-লোন বাংলাদেশে একেবারে নতুন নয়। দেশের একটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) কয়েক বছর ধরেই এ ধরনের ঋণসেবা দিয়ে আসছে। বেসিসের সাবেক সভাপতি ও বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর বলেন, “এটা নতুন কিছু না। বিকাশ আর সিটি ব্যাংক মিলে যেটা করে, এটা সেটাই। লোন দেয় সিটি ব্যাংক, কিন্তু বিকাশের মাধ্যমে অ্যাপ্লাই করা যায়। শুরুতে এটা ছিল ২০ হাজার, এখন ৫০ হাজার করা হয়েছে।”

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক সার্কুলারের ফলে এখন যেকোনো ব্যাংক ডিজিটাল ঋণসেবা চালু করতে পারবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

মেঘনা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল আমিন বলেন, “আগে ওই ব্যাংক বিকাশের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে কাজটা করেছে। এখন যেটা হলো, দেশজুড়ে সব ব্যাংকের জন্য এটা প্রযোজ্য হলো। এর মানে ডিজিটাল লোন দেওয়া কখনো নিষেধ ছিল না; এটা নতুন কিছু না, পুরাতন জিনিস।” তার ভাষায়, ই-লোন আসলে ঋণ দেওয়ার একটি পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া, এটি আলাদা কোনো ঋণের ধরন নয়।

তিনি বলেন, এসএমই বা করপোরেট ঋণের মতো এটি কোনো আলাদা ক্যাটাগরি নয়। বর্তমানে কটেজ, মাইক্রো, স্মল ও মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস—সংক্ষেপে সিএমএসএমই খাতের ঋণ ডিজিটালভাবে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ই-লোন চালু হলে সাধারণ মানুষ দ্রুত ও সহজে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং সেবাও আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক হবে। তবে ডিজিটাল লেনদেনে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঋণের শর্ত ভালোভাবে বুঝে নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।