সাইবার যুদ্ধে দিশেহারা ইউরোপের বড় তিন দেশের ব্যাংক

বিপজ্জনক ‘ব্ল্যাক-আউট’

প্রতীকী ছবি

সাহিল আহমেদ রুদ্র

১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৮ পিএম

ফের মারাত্মক সাইবার হামলার শিকার হয়েছে ইউরোপের তিনটি বড় দেশের ব্যাংক ব্রাসেলস, বেলজিয়াম,জার্মানি। যুদ্ধের ময়দান যখন কম্পিউটার স্ক্রিন, তখন সীমানা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ইউরোপের আর্থিক ইতিহাসে এক কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল। একযোগে ইউরোপের তিনটি প্রধান দেশের ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে বড় ধরনের সাইবার হামলা চালিয়ে পুরো ব্যবস্থা অচল করে দিয়েছে একদল অজ্ঞাত হ্যাকার।


ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স

গ্রিনিচ মান সময় (GMT) দুপুর ২:১৫ মিনিটে প্রথম হামলাটি চিহ্নিত করা হয়।ফ্রান্সের 'সোসাইটি জেনারেল', জার্মানির 'ডয়চে ব্যাংক' এবং বেলজিয়ামের কয়েকটি স্থানীয় ব্যাংকিং গেটওয়েতে এই সাইবার হামলাটি হয়।


প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, এটি ছিল একটি উচ্চপর্যায়ের "ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়েল অব সার্ভিস" (DDoS) এবং "র‍্যানসমওয়্যার" হামলার সংমিশ্রণ। হ্যাকাররা প্রথমে ব্যাংকের সার্ভারগুলোতে কৃত্রিম ট্রাফিকের চাপ সৃষ্টি করে সেগুলো অচল করে দেয়। এরপর ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ডাটাবেজে প্রবেশ করে গ্রাহকদের সংবেদনশীল তথ্য এনক্রিপ্ট বা 'লক' করে দেয়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা বিশাল অংকের মুক্তিপণ (Ransom) আদায়ের লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

এই হামলার কারণে প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে এটিএম (ATM) বুথ থেকে টাকা তোলা এবং অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

ইউরোপের শেয়ার বাজারে এই হামলার প্রভাবে বড় ধরনের ধস নামে। কয়েক বিলিয়ন ইউরো সমমূল্যের লেনদেন মাঝপথে আটকে যায়।

ইউরোপের এক প্রতিবেদনে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক গবেষকদের মতে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ২ লক্ষাধিক প্রিমিয়াম গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে গেছে। কেবল সিস্টেম পুনরুদ্ধার এবং লেনদেন বন্ধ থাকায় ব্যাংকগুলোর প্রত্যক্ষ ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ইউরো।

আন্তর্জাতিক বিবিসি চ্যানেলের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ইউরোপীয় সাইবার এক্সপার্টদের গবেষণার ভিত্তিতে জানা যায় যে হামলার পর 'ডার্ক ওয়েব'-এ রাশিয়ার সাথে সম্পৃক্ততা থাকা বিতর্কিত হ্যাকার গ্রুপ 'কিলনেট' (Killnet) বা 'নো-নাম-০৫৭' (NoName057)-এর নাম আলোচনায় আসছে।যদিও তারা সরাসরি দায় স্বীকার করেনি, তবে হামলার ধরন দেখে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের দিকেই আঙুল তুলছে। অনেকে মনে করছেন, ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপের দেশগুলোর অবস্থানের পাল্টা জবাব হিসেবে এই সাইবার হামলা চালানো হতে পারে।১৭ ডিসেম্বর সকালে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ECB) জানিয়েছে, অধিকাংশ পরিষেবা পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। তবে সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা এখনো হাই-অ্যালার্ট জারি করে রেখেছেন। গ্রাহকদের দ্রুত তাদের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার এবং সন্দেহজনক কোনো লেনদেন দেখলে রিপোর্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ইউরোপোল (Europol) এবং ইন্টারপোল এর সর্বশেষ তথ্য প্রায় ২ কোটি মানুষ সাময়িকভাবে পরিষেবা বঞ্চিত।