মাদুরো ছাড়াও যেসব রাষ্ট্রনেতাকে বন্দি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র

প্রতীকী ছবি
০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে বন্দি করার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী তাঁকে ‘আটক’ করে নিউইয়র্কে নিয়ে গেছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের। যদিও রাশিয়া, চীন ও ইরানসহ একাধিক দেশ একে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে আগ্রাসী হস্তক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে বন্দি করার ঘটনা বিরল হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটি প্রথম নয়। এর আগেও নিজেদের রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের গ্রেপ্তার করেছে ওয়াশিংটন।
সাকিব ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ
ম্যানুয়েল নরিয়েগা (পানামা)
১৯৮৯ সালে পানামায় সামরিক অভিযান চালিয়ে তৎকালীন শাসক জেনারেল ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে উৎখাত করে যুক্তরাষ্ট্র। মাদক পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে ১৯৯০ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন নরিয়েগা। ২০১৭ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
সাদ্দাম হোসেন (ইরাক)
২০০৩ সালে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ থাকার অভিযোগ তুলে ইরাকে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট। ওই অভিযানের পর আত্মগোপনে থাকা ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে একই বছর গ্রেপ্তার করা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০০৬ সালে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
হুয়ান অরল্যান্ডো এরনান্দেজ (হন্ডুরাস)
হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো এরনান্দেজকে ২০২২ সালে মাদক পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। সেখানকার আদালত তাঁকে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে ২০২৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ক্ষমা করে দিলে তিনি মুক্তি পান।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনাই প্রমাণ করে—যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই নিজস্ব নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থের প্রশ্নে সরাসরি সামরিক ও আইনি পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করেনি। মাদুরোর ‘গ্রেপ্তার’ সেই ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ ও সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণ।


