বদলে গেলেন সেই মামদানি!

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ বেশ সতর্ক ও পরিমিত মেজাজে পার করছেন ৩৪ বছর বয়সি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট নেতা জোহরান মামদানি। নির্বাচনি প্রচারে কট্টর প্রগতিশীল অবস্থানের জন্য পরিচিত থাকলেও মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের শুরুতেই তাকে অনেক ক্ষেত্রে কৌশলী ও আপসকামী ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারির শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর মামদানি গ্রাসি ম্যানশনে- নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের সরকারি বাসভবনে- উঠেছেন। নগরীর দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। আবাসন নির্মাণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, গণশৌচাগার স্থাপন ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের মতো কয়েকটি জনহিতকর উদ্যোগের ঘোষণা দিলেও মেয়রের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাজেট সংকট।


ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ডে বিক্ষোভ

নিউইয়র্ক সিটির চলতি অর্থবছরে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার এবং আগামী অর্থবছরে ১০ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতির আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এই আর্থিক বাস্তবতা সামাল দিতে গিয়ে মামদানিকে তার উচ্চাভিলাষী সামাজিক কর্মসূচিগুলোর কিছুতে ছাড় দিতে হতে পারে- এমন ইঙ্গিতও মিলছে সিটি হল থেকে।


রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সঙ্গে মামদানির ক্রমবর্ধমান সুসম্পর্ক নিয়ে। অতীতে মেয়র ও গভর্নরের মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। তবে মামদানি সেই ঐতিহ্যবাহী সংঘাতের পথে হাঁটছেন না। বিশেষ করে শিশুদের জন্য ‘ইউনিভার্সাল চাইল্ড কেয়ার’ নিশ্চিত করতে তিনি গভর্নরের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ এবং পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ বজায় রাখাও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিস্মিত করেছে। নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত মামদানির এই বাস্তববাদী কৌশলকে অনেকে ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর দাবিতে তিনি এখনো অনড়।

পুলিশি কার্যক্রম ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়েও মামদানিকে পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে। অতীতে নিউইয়র্ক পুলিশের (এনওয়াইপিডি) কড়া সমালোচক হলেও মেয়র হওয়ার পর তিনি পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশকে স্বপদে বহাল রেখেছেন এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি পুলিশি অভিযানের প্রশংসাও করেছেন।

ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যু ও অ্যান্টিসেমিটিজম নিয়ে শুরুতে তার নীরবতা বিতর্ক সৃষ্টি করলেও পরে তিনি হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেন। বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত ভুল সংশোধন ও বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই মামদানিকে একজন পরিণত রাজনৈতিক নেতার দিকে এগিয়ে নিচ্ছে।