ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলেই বাড়তি শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত
০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা বজায় রাখতে হলে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে, এমন প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে নতুন এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আদেশের ফলে যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাবে, তাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সৌদির হামলা
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার ইস্যু করা এই নির্বাহী আদেশে নির্দিষ্ট কোনও শুল্ক হারের কথা উল্লেখ না থাকলেও উদাহরণ হিসেবে ২৫ শতাংশের কথা বলা হয়েছে। আদেশে বলা হয়, যেসব দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইরান থেকে পণ্য বা সেবা ক্রয়, আমদানি বা সংগ্রহ করবে, যুক্তরাষ্ট্র সেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এই শুল্ক আরোপ করতে পারবে।
শুক্রবার রাতে এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে কথা বলার সময় ট্রাম্প সরাসরি এই আদেশের বিষয়ে মন্তব্য না করলেও আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের হাতে কোনও পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এই নির্বাহী আদেশ ইরানের বিষয়ে চলমান জাতীয় জরুরি অবস্থারই প্রতিফলন। ইরানকে তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই এই পদক্ষেপ।
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। গত জুনে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর এটিই দেশ দুটির মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা। শুক্রবারের এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
ট্রাম্প এই আলোচনাকে খুব ভালো বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি তারা চুক্তিতে না আসে, তবে এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
বর্তমানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সবচেয়ে বড় রফতানি অংশীদার চীন। ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এক বছরে বেইজিং ইরান থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনেছে। এরপরই রয়েছে ইরাক (১০.৫ বিলিয়ন ডলার)। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কও ইরানের বড় গ্রাহক। বিশেষ করে তুরস্কে ইরানের রফতানি ২০২৪ সালের ৪.৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে গত বছর ৭.৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। নতুন এই শুল্ক নীতি কার্যকর হলে এই দেশগুলো বড় ধরনের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
পৃথকভাবে শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও ১৫টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যারা ইরানি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
ইরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে। তবে গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ওপর সহিংস দমনপীড়নের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে, যাকে ট্রাম্প ম্যাসিভ আর্মাডা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সুযোগে ওই দমনপীড়নে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।


