হরমুজ প্রণালিতে আটকা ২০ হাজার নাবিক

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ট্রেডউইন্ড নিউজ এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।


ভারতকে উপযুক্ত জবাব দেবে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের এক শীর্ষ নিয়ন্ত্রক এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এই অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছে।


আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ বলেছেন, মার্কিন-ইসরায়েল হামলা এবং ইরানের প্রতিশোধের কারণে ক্রুজ জাহাজের আরও ১৫ হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন।

এ যুদ্ধের কারণে শুধু হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল থমকে যাচ্ছে না, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সম্পদেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সময় আমেরিকা প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতির মূল কারণ হলো কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত একটি মার্কিন এএন/এফপিএস-১৩২ প্রাথমিক সতর্কতা রাডার সিস্টেম। যার মূল্য ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

রোববার কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভুলে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। এ সময় ছয় বিমান ক্রু বেঁচে গেলেও যুদ্ধবিমানগুলো ধ্বংস হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ২৮২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়।

শনিবার ইরানি হামলায় বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল এবং বেশ কয়েকটি বড় ভবন ধ্বংস হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে মোতায়েন করা থাড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার উপাদানটিও ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্যাটেলাইট চিত্র থেকে জানা গেছে যে, রাডারে একটি আঘাত লেগেছে। ধ্বংস হওয়া রাডার উপাদানটির মূল্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এই খরচ মিলিয়ে ইরান এই অঞ্চলে ১ হাজার ৯০২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন সামরিক সম্পদের ক্ষতি করেছে।

শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরান এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কমপক্ষে সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, ক্যাম্প আরিফজান, কুয়েতে আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং ক্যাম্প বুহরিং, ইরাকের এরবিল ঘাঁটি, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর বৃহত্তম বন্দর সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর এবং কাতারে আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।