নেপালে পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভূমিধস জয় পাচ্ছে অভ্যুত্থানকারীরা

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম

নেপালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পথে রয়েছে সাম্প্রতিক জেন-জি গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ১৬৫টি আসনের ১৬১টি আসনের প্রাথমিক ফলাফলে দাপটের সঙ্গে এগিয়ে রয়েছে আরএসপি।


কাতার-বাংলা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে আকবর ও শাহরিয়ার

শনিবার (৭ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য হিমালয়া।


দেশটির নির্বাচন কমিশনের মোট ভোট গণনার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আরএসপি ইতোমধ্যে ৩৪টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া দলটি আরও ৮৫টি আসনে শক্ত অবস্থানে থেকে এগিয়ে রয়েছে।

নেপালের অন্যতম পুরনো দল নেপালি কংগ্রেস ৫টি আসনে জয়ী হতে পেরেছে এবং তারা মাত্র ১১টিতে এগিয়ে আছে। অন্যদিকে, কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) পেয়েছে মাত্র ২টি আসন এবং ৮টিতে এগিয়ে রয়েছে। নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি ১টি আসনে জয় পেয়েছে।

অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শ্রম সংস্কৃতি পার্টি ৫টি এবং রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি ১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। দেশটির এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাপট সবচেয়ে দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। নেপালের প্রখ্যাত উদ্ভাবক মহাবীর পুনঃস্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একটি আসনে জয়ী হয়েছেন এবং আরও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্য একটি আসনে জয়ের পথে রয়েছেন।

শুক্রবার (৬ মার্চ) নেপালের পার্লামেন্টের দুই কক্ষের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস নির্বাচনে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ২৭৫ সদস্যের আইনসভার ১৬৫ জন সরাসরি এবং ১১০ জন সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি থেকে মুক্তি, কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ রাজনীতির দাবিতে গত সেপ্টেম্বরে তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভে ও সরকারের পতনের পর নেপালে প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নেপাল কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯০ সাল থেকে দেশটিতে ৩২ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে।

কয়েক দশক ধরে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা নেপালি কংগ্রেস এবং সিপিএন-ইউএমএলের মতো পুরোনো দলগুলো নির্বাচনি লড়াইয়ে রয়েছে। র‍্যাপ গায়ক হিসেবে জনপ্রিয় মুখ ৩৫ বছর বয়সি বালেন্দ্র শাহ গত জানুয়ারিতে যোগ দেন আরএসপিতে, তিন বছর আগে দলটি গঠিত হয়। তিনি দলটির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী। তিনি কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভের প্রধান মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। শাহর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়ছেন ইউএমএলের ৭৪ বছর বয়সি কে পি শর্মা ওলি, যিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।