ইরানে মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা চীনের

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দুই লাখ মার্কিন ডলার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেইজিং।


তালেবানের হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা নিহত

শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, সাধারণ মানুষ ও বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন।


তিনি বলেন, দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে এই সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্কুলে হামলা এবং বেসামরিক মানুষের ক্ষতি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং মানবতার মৌলিক সীমা অতিক্রম করেছে।

মুখপাত্র আরও জানান, চীনের রেড ক্রস সোসাইটি ইরানে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে দুই লাখ মার্কিন ডলারের জরুরি মানবিক সহায়তা দেবে।

তিনি বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে চীন ইরানের জনগণকে এই সংকট মোকাবিলায় সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে।

মুখপাত্র আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে বেইজিংয়ের। তার মতে, সব দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে এবং কোনোভাবেই তা লঙ্ঘন করা উচিত নয়। একই সঙ্গে সব পক্ষকে দ্রুত সামরিক অভিযান বন্ধ করে সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহু শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি জানিয়েছে তেহরান।

এ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বেড়েছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।