আফগান হাসপাতালে পাকিস্তানের হামলা, নিহত ৪০০

ছবি : সংগৃহীত
১৭ মার্চ ২০২৬, ০১:০০ পিএম
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। এ ঘটনায় আরও প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ইথিওপিয়াতে দুর্ঘটনায় নিহত ৭১
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে কাবুলের একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বহু মানুষ নিহত ও আহত হন।
তিনি বলেন, প্রায় দুই হাজার শয্যার ওই হাসপাতালের বড় একটি অংশ হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের কারণে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আফগান সরকারের এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, কাবুলের কোনো হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বেসামরিক স্থাপনা ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক নীতি ও মানবতার পরিপন্থি এবং এটি একটি গুরুতর অপরাধ। আফগানিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কাবুলের নবম পুলিশ জেলার একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা কেন্দ্রকে লক্ষ্য করেই এই বিমান হামলা চালানো হয়, যাতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে কয়েক দফা গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিকে দুই দেশের মধ্যে অন্যতম তীব্র উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে পাকিস্তান সরকার পুনর্বাসন কেন্দ্রে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাবুলে কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কাবুল এবং পূর্বাঞ্চলীয় নাঙ্গারহার প্রদেশে সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ‘নির্ভুল বিমান হামলা’ চালিয়েছে।


