সংসদ নির্বাচন ভন্ডুলের চেষ্টায় সক্রিয় একটি চক্র
অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েক উপদেষ্টার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

ছবি : সংগৃহীত
২০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৫১ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ষড়যন্ত্রের কূটচাল--এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সচেতন নাগরিক সমাজ। তাদের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা, যাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
বইমেলায় স্টল ভাড়া পুরোপুরি মওকুফ
অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো একটি নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে সম্ভাব্য ভোটের সময়সূচি ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদার করলেও সরকারের ভেতরের কিছু ব্যক্তির সন্দেহজনক ভূমিকা সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে গুজব, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং নির্বাচন ভণ্ডুলের নানামুখী প্রচেষ্টা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যে নির্বাচনটি দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা দৃঢ় করবে বলে আশা করা হয়েছিল, সেটি ঘিরে এখন কিছু মহলের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন পক্ষ। বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচনের সৌন্দর্য নিহিত থাকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও নিরপেক্ষ আচরণে—যা নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব। কিন্তু অভিযোগ আছে, কিছু উপদেষ্টার আচরণ এই প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
জনমত জরিপে প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় কয়েক দল ও জোট রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যে ভিন্ন পথে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। রাজপথে উত্তেজনা সৃষ্টি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করা এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকেরা।
আরও উদ্বেগজনক হলো, এ ধরনের তৎপরতায় সরকারের ভেতর থেকেই কিছু উপদেষ্টা ইন্ধন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। গোপন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সদস্য ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় বিভিন্ন দল ও জোটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এমনকি কিছু উপদেষ্টার বিদেশে অবস্থান জোরদারের খবরও পাওয়া গেছে—সম্ভবত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা সুবিধার কথা চিন্তা করে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব উপদেষ্টা ডানপন্থি কয়েকটি দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাদের উৎসাহও দিচ্ছেন।
জাতির সামনে এখন বড় প্রশ্ন, যারা নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়ে ক্ষমতায় রয়েছেন, তারা যদি পক্ষপাতিত্বে জড়িয়ে পড়েন, তবে কীভাবে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে?
এ মুহূর্তে প্রয়োজন স্বচ্ছতা, কঠোর নজরদারি, এবং দায়িত্বশীল আচরণ। যাতে যেকোনো ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয় এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অক্ষুণ্ণ থাকে।


