ওসমান হাদির কবরে আজও অশ্রুসিক্ত মানুষের ঢল

ছবি : সংগৃহীত
২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:০৫ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়েছে। এর পর থেকেই সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরেও একই চিত্র দেখা গেছে।
জামায়াতের আদর্শ গ্রহণ করবে আওয়ামী লীগ!
এদিন সকাল থেকে হাদির কবর দেখতে মানুষের ঢল নেমেছে। সমাধিস্থলে প্রবেশ করতে না পারলেও গেটের বাইরে দাঁড়িয়েই হাদির জন্য অশ্রুসিক্ত নয়নে অনেককে দোয়া করতে দেখা গেছে। কেউ দুহাত তুলে অঝোরে কেঁদেছেন, কেউ আবার নিচুস্বরে কোরআনের আয়াত পাঠ করেছেন।
এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বড় ভাই আবু বকর ছিদ্দিকের ইমামতিতে হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে তাকে সমাহিত করা হয়। এ সময় স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা অশ্রুসজল চোখে তাকে শেষ বিদায় জানান।
শরিফ ওসমান হাদি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতা ছিলেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্র ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে ওসমান হাদি ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদ্রাসা থেকে পঞ্চম শ্রেণি থেকে আলিম পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মেধাবী এই শিক্ষার্থী জীবিকার তাগিদে প্রাইভেট পড়াতেন। সবশেষ তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে নির্বাচনি প্রচারণাকালে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হাদির মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার মারা যান হাদি।


