বাংলাদেশে স্থাপিত হচ্ছে সামরিক ড্রোন কারখানা

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবার দেশেই স্থাপিত হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক সামরিক ড্রোন উৎপাদন কারখানা। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।


খুলনায় আদালত চত্বরে গুলিবিদ্ধ ২

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে (জি-টু-জি) এই চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। প্রকল্পের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে— ‘ইস্টাবলিশমেন্ট অব ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট এন্ড ট্রান্সফার অব টেকনোলজি (টিওটি) ফর আনম্যানড এরিয়াল ভ্যাহিকেল (ইউএভি)’। গত ৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের জন্য ৬০৮ কোটি ৮ লাখ টাকার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন।


আর্থিক রূপরেখা ও বাস্তবায়ন: মোট ব্যয়: ৬০৮ কোটি ৮ লাখ টাকা (প্রাথমিক প্রস্তাব থেকে ৩৫.৫৩ কোটি টাকা কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে)।

পরিশোধ পদ্ধতি: মোট অর্থের সিংহভাগ (৫৭০.৬০ কোটি টাকা) এলসির মাধ্যমে চার অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করা হবে।

বাজেট ব্যবস্থাপনা: বিমান বাহিনীকে এই প্রকল্পের জন্য বাড়তি কোনো বরাদ্দ দেওয়া হবে না। বাহিনীর বার্ষিক নিয়মিত বাজেট থেকেই এই ব্যয় নির্বাহ করা হবে।

সহযোগী প্রতিষ্ঠান: চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা ইলেকট্রনিক্স প্রতিষ্ঠান ‘চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন’ (সিইটিসি) ইন্টারন্যাশনালের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় দিক হলো ‘প্রযুক্তি হস্তান্তর’ বা Transfer of Technology (ToT)। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কেবল ড্রোন ব্যবহারই নয়, বরং দেশেই ড্রোন উৎপাদন ও দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা অর্জন করবে। এটি ভবিষ্যতে সামরিক সরঞ্জাম আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভরতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বিষয়গুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে, সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বের ১১০টিরও বেশি দেশে তাদের উন্নত রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। এই ড্রোন কারখানা স্থাপন সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।