বগুড়ার কৃতিসন্তান আতিকুর রহমান রুমন

ছবি : সংগৃহীত

এসএম ফারহান লাবিব (জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া)

১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

জিয়া পরিবারের আস্থার প্রতীক সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন। পেশায় একজন সাংবাদিক হলেও নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। সত্য, ন্যায় ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন রুমনের প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে তাঁর সাহসী এবং দায়িত্বশীল কলম।


নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান থাকলেও উদাসীন বিএনপির কর্তারা

১৯৮১ সালের ৩০ মে, রেডিওতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শহীদত্ব বরণ সংবাদ শুনে ব্যথিত হৃদয়ে ধারণ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন বাঙালির সেই মহান নেতাকে। সেদিন থেকেই শহীদ জিয়ার নাম, আদর্শ ও দর্শন হয়ে ওঠে তাঁর চিন্তা-চেতনা ও জীবনচর্চার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনকে বুকে ধারণ করে আতিকুর রহমান রুমন নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন জনপ্রয়োজনে।


বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা হয়ে বর্তমানে তিনি জাতীয় ‘দৈনিক দিনকাল’ পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদক, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ নামে মানবিক ও সামাজিক সেবামূলক সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শহীদ জিয়ার জন্মভূমি বগুড়ার গাবতলীর মাটিতে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি সাংবাদিকতা এবং রাজনীতির মিশ্রধারায় বগুড়াবাসীর গর্বে পরিণত হয়েছেন।হিমালয়ের ন্যায় অটল অবস্থান থেকে জনতার কল্যাণে যিনি অক্লান্ত ছুটে চলেন প্রিয় নেতার প্রতি মুগ্ধতা নিয়ে।

ফিরে দেখা যাক প্রায় ২৬ বছর পেছনে—২০০০ সাল। শহীদ জিয়ার প্রতিচ্ছবি জ্যেষ্ঠপুত্র বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে প্রথম রাজনৈতিক সফরের স্মৃতি, যা আজও গভীর আবেগে নাড়া দেয় আতিকুর রহমান রুমনকে।

বিএনপির একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়া থেকে নওগাঁ অভিমুখে যাত্রা শুরু করে বহরটি। সে সময় তিনি ছিলেন দলের একজন কনিষ্ঠ কর্মী এবং বহরের নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং তারেক রহমান। অসংখ্য জ্যেষ্ঠ নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মাঝে ওই সফরে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়াকে আজও তিনি জীবনের বড় সৌভাগ্য হিসেবেই বিবেচনা করেন।

বহরে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিশ্চিত ছিলেন না তিনি যেতে পারবেন কি না। গাড়িগুলো একে একে রওনা হচ্ছিল, অথচ কোনো গাড়িতে তাঁর জন্য জায়গা মিলছিল না। নিরাপত্তাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে অনিশ্চয়তায় কাটছিল মুহূর্তগুলো। একপর্যায়ে বহর থেমে গেলে সবাই নিজ নিজ গাড়িতে উঠে পড়লেও তাঁর জন্য তখনও কোনো আসন নির্ধারিত হয়নি। 

হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সেই মুহূর্তেই ঘটে যায় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। হঠাৎ ভারি কণ্ঠে তাঁর নাম ধরে ডাক শোনা যায়। কাছে গিয়ে বিস্ময়ে দেখেন—ডাকছেন স্বয়ং তারেক রহমান। গাড়ির লুকিং গ্লাসে তাঁকে লক্ষ্য করেই চিনে ফেলেন তিনি। কি অপূর্ব নেতা জনাব তারেক রহমান! 

জানতে চান, সফরে যাবেন কি না। উত্তরে উচ্ছ্বাসভরে ‘যাবো ভাইয়া’ বলতেই তারেক রহমানের নির্দেশে তাঁকে সাংবাদিকদের মাইক্রোবাসে স্থান দেওয়া হয়। একজন কনিষ্ঠ কর্মীর প্রতি এমন আন্তরিকতা ও স্মরণশক্তি আজও রুমনের কাছে অনন্য নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

সময় গড়িয়ে এখন ২০২৬ সাল। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ। শহরের অলিগলি পেরিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের মেঠোপথে বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের পাশে একই গাড়িতে ছুটে চলছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন। সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে দিচ্ছেন বার্তা, ভাগ করে নিচ্ছেন শত শত সুখ-দুঃখ। পথের প্রতিটি বৃক্ষ, প্রতিটি জনপদ যেন এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের নীরব সাক্ষী।

আতিকুর রহমান রুমন কেবল বগুড়ার মানুষের জন্যই নয় বরং সারাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর সাহস, দায়বদ্ধতা, সত্য এবং ন্যায়ের প্রতি অটল নিষ্ঠা যুব সমাজকে পথ প্রদর্শন করছে। রাজনীতি, সাংবাদিকতা এবং মানবিক সেবার ক্ষেত্রে যে মান ও আদর্শ তিনি স্থাপন করেছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্যও বহন করছে একটি শক্তিশালী নির্দেশনা।