ভোট উৎসব শেষ, ফলের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২০ পিএম

দেড় দশক পর ভোট উৎসবে মেতেছিল দেশবাসী। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটযুদ্ধ। নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গেই শেষ হয়েছে ভোটগ্রহণ। এবার ফলের অপেক্ষায় আছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।


তারেক রহমানের পক্ষে বগুড়ায় ছাত্রদলের গণসংযোগ

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আজ একই সঙ্গে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাই এক সঙ্গে মিলবে দুটি ফল। কে কত ভোট পেলেন, পছন্দের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন কিনা- তা জানার জন্য ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন নাগরিকরা। কেউ কেউ তাকিয়ে আছে টেলিভিশনের পর্দায়। অধির আগ্রহে করছেন অপেক্ষা।


তবে এবার দুটি ভোট একসঙ্গে হওয়ায় ব্যালটগুলো গণনা শেষে ফলাফল প্রকাশে কিছুটা দেরি হতে পারে বরে আগেই জানিয়ে রেখেছে নির্বাচন কমিশন।

রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রসহ সারাদেশের নির্বাচনি এলাকাগুলোতে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কয়েকটি আসনে কারচুপির অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা। দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ স্থগিতও চাওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও জালভোট দেওয়া, ব্যালট বই ছিনতাই ও কেন্দ্র দখল চেষ্টার অভিযোগে বেশ কয়েক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে দণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে যারা ভোটকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়াবেন, তারা নির্ধারিত সময়ের পরও ভোট দিতে পারবেন; তবে এরপর আর নতুন কাউকে লাইনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। আজ রাজধানীর এক কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ওই সময়ের মধ্যে যারা ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবেন, তাদের সবাইকে সুযোগ দেওয়া হবে। তবে বিকাল সাড়ে ৪টার পর নতুন করে কেউ আর লাইনে দাঁড়াতে পারবেন না।

এদিকে রাজধানীর গুলশান-বনানী ও ধানমণ্ডি এলাকার বেশ কয়েকটি কেন্দ্র সরেজমিন পর্যবেক্ষণে নারী ভোটারদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়, যেখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও ভোটারদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।

একাধিক নির্বাচন কর্মকর্তার তথ্যানুযায়ী, সকাল ১১টার মধ্যেই অনেক কেন্দ্রে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট কাস্টিং সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার বনানীর ৫১ নম্বর কেন্দ্রে দুপুর সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৫১০টি ভোটের বিপরীতে ৭৯৫টি ভোট পড়েছে, যা মোট ভোটের ২২ শতাংশ।

নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার দেশের ২৯৯ সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকলেও বাকি আসনে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। মোট ২ হাজার ৩৪ প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন ২৭৫ জন। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১ জন, ইসলামী আন্দোলন ২৫৮ জন, জামায়াত ২২৯ জন এবং জাতীয় পার্টি ১৯৮ জন প্রার্থী দিয়েছে। 

এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩২ প্রার্থী ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটারের এ বিশাল কর্মযজ্ঞে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন।

নির্বাচনি নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োজিত আছেন।