আপত্তিকর ভোটগ্রহণ, জাল ভোটের অভিযোগ

ঢাকা-৫ আসনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, আটক ১

ছবি : সংগৃহীত

মাহবুব মনি (চিফ রিপোর্টার)

১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম

প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ঢাকা-৫ আসনে সম্পন্ন হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তবে সুশৃঙ্খল এ নির্বাচনে অভিযোগ উঠেছে বেশ কিছু জাল ভোটের। এদিকে কিছু কিছু কেন্দ্রে একসঙ্গে দুই ভোট গ্রহণে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণের কারণে ভোট না দিয়ে ভোটারদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার অভিযোগও আছে। এদিন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ডেমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র সংলগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর হাতে আটক হওয়া মো. ইব্রাহিম নামে এক ভোটারকে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। জালভোটের প্রেক্ষিতে আপত্তিকর ভোট নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী এবারের ভোটের মাঠে বিগত দিনের চেয়ে ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। আর উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে প্রাথমকিভাবে জানা গেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৬ থেকে ৫০ শতাংশ। এ পরিসংখ্যান কম বেশি হতে পারে। 


রাজধানীজুড়ে অবৈধ সিসার রমরমা বাণিজ্য

সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর ডেমরায় ঐহিত্যবাহী সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের ৪ নম্বর ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট গ্রহনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।


বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আমিমুজ্জামান। সূত্রে জানা যায়, কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এক নারী ভোটার পরিচয়ে ভোট দেন। পরে প্রকৃত ভোটার উপস্থিত হলে বিষয়টি ধরা পড়ে।

প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আমিমুজ্জামান বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। একটি জাল ভোট পড়েছে। প্রকৃত ভোটার আসার পর বিষয়টি জানতে পারি। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত ভোটারের ভোট গ্রহণ করে তা আলাদা করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ডগাইর দারুচ্ছুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসার ৪ তলার ৩ নম্বর কেন্দ্রে ১টি জাল ভোট গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছেন। পরবর্তীতে প্রকৃত ভোটার উপস্থিত হলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখে সন্দেহজনক ভোট গ্রহণের প্রেক্ষিতে আপত্তিকর ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার জানায়, একজন ভোটার ভোট দিতে এসে দেখেন অন্য কেউ তার ভোট দিয়েছে। এ সময় পুলিং এজেন্টরা সকলেই ওই ভোটারের ভোট নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আপত্তিকর ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ডেমরায় সেনাবাহিনী মো. ইব্রাহিম নামে এক ভোটারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তবে তিনি কোন দলীয় প্রার্থী ছিলেন না। আটক ইব্রাহিম ওই এলাকার আমান মিয়ার ছেলে। তবে এ বিষয়ে এলাকাবাসী বলছেন সেনাবাহিনী তার সঙ্গে কথা বললে সে বুঝে শুনে উত্তর দিতে পারেনি। ইব্রাহিম কোন দলীয় প্রার্থী নয় সাধারণ এলাকাবাসী। বিষয়টি নিশ্চিত করে ডেমরা থানার ওসি (তদন্ত) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, ইব্রাহিম বর্তমানে পুলিশের হেফাজতেই আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নুযায়ী পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই হ্যাঁ এবং না ভোটসহ দুই ভোট গ্রহনে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপন হয়েছে। এ ঘটনায় কিছু কিছু কেন্দ্রে অনেক ভোটার দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে পরে জরুরী কাজে বাড়ী ফিরে যান। যদিও তারা পরে আসবেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শওকত হোসেন লিংকন নামে এক সাধারণ ভোটার জানান, ডগাইর রুস্তম আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে দেখি দীর্ঘ লাইন। অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়ানোর পরও দেখি একজনের দুই ভোট নিতে অতিরিক্ত সময় নিচ্ছে। এক্ষেত্রে হ্যাঁ ও না ভোটের বিষয়টি বুঝতে গিয়েও সময় নষ্ট করেছে। তাই আমি জরুরী কাজে বের হওয়ার পর আর ভোট দিতে পারিনি। এমন অভিযোগ অনেক রয়েছে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে বড়ভাঙ্গ এলাকার ভোটার সেলিম মিয়া জানান, আমি ফুলকুড়ি স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে ৩ বার সিরিয়ালে ৩ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত বিকাল ৪ টা ৩৩ মিনিটে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভোট দিতে পারি। 
আরও দেখা গেছে, ঢাকা-৫ আসনের ঝুঁকিপূর্ন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ, কোনাপাড়া মান্নান স্কুল এন্ড কলেজ, এম.এ ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়, ডেমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও যাত্রাবাড়ী বালক-বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে। তবে সেনবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

এ বিষয়ে সেনাবাহিনী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, কিছু কিছু কেন্দ্রে লোকজন জড়ো হলেও আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত আমরা মাঠে আছি।

এ বিষয়ে ডেমরা থানার ওসি তাইফুর রহমান মির্জা বলেন, নির্বাচনের দিন তারিখ ঘোষণার পর থেকেই পুলিশ সতর্ক অবস্থায় ছিল। তাই দলীয় বিশৃঙ্খলা ঘটেনি থানা এলাকায়। এক্ষেত্রে সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ সব সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী মাঠে থাকায় সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।