বগুড়াবাসীর আকাঙ্ক্ষা জিএম সিরাজ, উদাসীন বিএনপির কর্তারা

ছবি : সংগৃহীত

এসএম ফারহান লাবিব (জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া)

১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

জনগণের বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপি যখন সরকার গঠন করেছে, তখন উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক প্রাণকেন্দ্র বগুড়ায় বইছে হতাশার হাওয়া। বগুড়া-৫ ও ৬ আসন থেকে ছয়বারের নির্বাচিত সফল সংসদ সদস্য, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে নবগঠিত মন্ত্রিসভায় স্থান না দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে শেরপুর ও ধুনট উপজেলায় এই অসন্তোষ এখন চরমে। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের এই পরীক্ষিত নেতাকে মন্ত্রিপরিষদে স্থান না দেওয়াকে বিএনপির নীতি নির্ধারকদের উদাসীনতা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।


শেখ হাসিনার পক্ষে লড়তে চান জেড আই খান পান্না

মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষিত ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় বগুড়া জেলা থেকে মাত্র একজনকে রাখা হয়েছে। তালিকায় জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিএম সিরাজের নাম না দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার প্রায় প্রতিটি চায়ের আড্ডায় বইছে সমালোচনার ঝড়। শেরপুর ও ধুনটবাসীর প্রত্যাশা ছিল, দলের কঠিন সময়ে রাজপথে থাকা এবং এলাকার উন্নয়নে নিবেদিত এই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন না ঘটায় সাধারণ মানুষ ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 


নব্বইয়ের দশক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জিএম সিরাজ মোট ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নিজের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন। রাজনীতির বাইরেও তিনি দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত, সফল ও নির্ভীক শিল্পপতি (এসআর গ্রুপের চেয়ারম্যান)। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দানশীল ব্যক্তিত্বের কারণে দলীয় পরিচয়ের বাইরেও সর্বস্তরের মানুষের কাছে রয়েছে তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা। বগুড়ার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। একজন জনপ্রিয়, জনন্দিত, মার্জিত ও শিক্ষিত নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তাঁকে মন্ত্রিসভায় দেখার অপেক্ষায় ছিল বগুড়াবাসী।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, বগুড়া-৫ আসনের জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা হলো তাঁদের প্রিয় নেতাকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে পাওয়া। জিএম সিরাজ একজন দক্ষ সংগঠক এবং দূরদর্শী রাজনীতিবিদ। বারবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি যে আস্থা অর্জন করেছেন, তা তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ। তৃণমূলের কর্মীদের মতে, এমন একজন অভিজ্ঞ নেতাকে অবমূল্যায়ন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

স্থানীয় সাধারণ জনগণের অনেকেই বলেন, “তিনি সব সময় মানুষের পাশে থেকেছেন। সুখে-দুঃখে, দুর্যোগে ও সংকটে তিনি এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাই আমরা চাই, তিনি দেশের বড় দায়িত্বে থেকে বৃহত্তর পরিসরে জনগণের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পান।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সৎ ভাবমূর্তির কারণে জিএম সিরাজ জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পূর্ণ যোগ্যতা রাখেন। তাঁকে মন্ত্রী করা হলে শুধু শেরপুর-ধুনট নয়, বরং সারাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমেও ইতিবাচক অবদান রাখতে পারবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

বগুড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ জনপদে জিএম সিরাজের মতো হেভিওয়েট নেতাকে মন্ত্রিসভার বাইরে রাখা কৌশলী সিদ্ধান্ত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েই যাচ্ছে নেতা-কর্মীদের মাঝে। তবে শেরপুর-ধুনটবাসীর চোখে এটি কেবল একটি পদবঞ্চিত হওয়া নয়, বরং তাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের অবমূল্যায়ন। বিএনপি সরকার গঠন করলেও বগুড়ার মানুষের হৃদস্পন্দন বুঝতে নীতি নির্ধারকদের উদাসীনতা উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে কেমন প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।