ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপককে কুপিয়ে হত্যা

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।


রাকসু জয়ীদের শপথ ২৬ অক্টোবর

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ আফিসকক্ষে একই বিভাগের সাবেক অফিস সহকারী ফজলুর রহমান ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করে নিজের গলা কেটে আত্মাহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ফজলুর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


অভিযুক্ত ফজলুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি হরিনায়ন ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের হামিদুল খন্দকারের ছেলে।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের দুজনকেই কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত ফজলুল রহমান গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসা চলমান অবস্থায় শিক্ষিকার মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে পুরুষ ব্যক্তিকে গলার শ্বাসনালী কাটা অবস্থায় আনা হয়েছে, তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নিহতের খবর শুনে হাসপাতাল চত্বরে ভিড় করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে হাসপাতালে পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ফজলুর রহমান আগে সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মচারী ছিলেন। পরে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে বিভাগীয় প্রধান তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদল করেন। বদলির আগে তাকে তিন-চারবার সুযোগ দেওয়া হয়, কিন্তু তার আচরণ পরিবর্তন না হওয়ায় অবশেষে তাকে বদলি করতে বাধ্য হন।

ফজলুর রহমান এ বদলি মেনে নিতে না পেরে বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনাকে বারবার অনুরোধ করেন তার অনুষদে ফিরিয়ে আনার জন্য। কিন্তু রুনা রাজি হননি। এই আক্রোশ থেকে হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভবনের দায়িত্বরত আনসার সদস্য বলেন, তিনি নিচে ছিলেন, তখন তিন-চারবার বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনতে পান। পাশে কয়েকজন ছাত্র ছিলেন। তাদের সঙ্গে উপরে কী অবস্থা দেখার জন্য যান। পৌঁছে দেখেন দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। বারবার দরজা খুলতে বলা হলেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় একজন চেয়ারে দাঁড়িয়ে ছিদ্র দিয়ে রুমের অবস্থা দেখে বলেন, ভেতরে খুন হয়েছে। এরপর ছয়জন মিলে দরজা ভেঙে দেখেন আসমা সাদিয়া রুনা নিচে উপুড় হয়ে পড়ে আছেন। আর ফজলুর রহমান নিজের গলায় ছুরি বসিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (মিরপুর সার্কেল) মুহাম্মদ মাহমুদুল হক মজুমদার বলেন, ‘খবরটি শুনেছি। এখনো সবটুকু জানি না। খোঁজ-খবর নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।’