যাকাত ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে : শায়খ আহমাদুল্লাহ

ছবি : সংগৃহীত
০৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
বাংলাদেশে যাকাত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করতে একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেন, যাকাত ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হতে পারে। ধর্মমন্ত্রী কমিটির সভাপতি থাকবেন। পাশাপাশি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিবকে কমিটিতে রাখার কথা বলা হয়েছে। ইসলামি অর্থনীতি বিষয়ে দেশ-বিদেশের কয়েকজন বিশেষজ্ঞের নামও প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিটি সুপারিশ তৈরি করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে।
কেন্দ্র দখলের কোনো খবর আমাদের কাছে আসেনি : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যাকাতের অর্থ কীভাবে আরও কার্যকরভাবে বণ্টন করা যায় এবং দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে তা কীভাবে প্রত্যক্ষভাবে কাজে লাগানো সম্ভব—এসব বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ জানতে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন গত ছয়–সাত বছর ধরে যাকাত নিয়ে কাজ করছে। শুধু গত এক বছরের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয় করে প্রতিষ্ঠানটি ২১০০ বেকার তরুণ–তরুণীকে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এখন ওই তরুণরা বছরে প্রায় ৪২ কোটি টাকা আয় করছে। যাকাতের অর্থ দিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন বা স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে স্থায়ী দারিদ্র্য বিমোচনের একটি কার্যকর মডেল তৈরি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, বর্তমানে মানুষ ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে যাকাত দিচ্ছেন, তা চলবে। তবে এর পাশাপাশি যেসব দাতব্য প্রতিষ্ঠান যাকাত সংগ্রহ করছে, সেগুলোকে একটি নীতিগত কাঠামোর আওতায় আনলে এবং কার্যকারিতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা গেলে যাকাত ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হবে। শুধু ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতেই বছরে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ যাকাত আদায় হয়। এই বিপুল সম্ভাবনার একটি অংশও যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দরিদ্র মানুষকে সাময়িকভাবে কিছু অর্থ দিয়ে দারিদ্র্য দূর করা যায় না। বরং তাদের দক্ষতা উন্নয়ন কিংবা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করলে দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। তবে সরকার সবার কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে যাকাত আদায় করবে— এমন কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, যাকাতের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করা যায় সে বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যাকাত ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে এবং এতে দেশের দরিদ্র মানুষ উপকৃত হবে।


