আতিকুর রহমান রুমনের সমালোচনাকারীরা নিজেকে দর্পণে দেখুন

ছবি : আওয়ার বাংলাদেশ

এসএম ফারহান লাবিব (জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া)

৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব জনাব আতিকুর রহমান রুমন। উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার মাটি ও মানুষের পরমাত্মীয় এবং কোটি হৃদয়ের স্পন্দন তিনি। নব্বইয়ের দশক থেকে সততা, দায়িত্ববোধ, আনুগত্য ও মানবিক অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে তিনি আজ কেবল বগুড়া নয়, বরং সারা দেশের অসংখ্য মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত একজন জননন্দিত ব্যক্তিত্ব। সাংবাদিকতার আপসহীন কলম আর রাজনীতির কল্যাণমুখী ধারার এক বিরল সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা নেতৃত্ব জনাব আতিকুর রহমান রুমন। তবে সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, তাঁর এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও সাফল্যে ঈর্ষান্বিত একটি স্বার্থান্বেষী মহল হীন অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। তারা হয়তো ভুলে গেছেন নিজেদের পরিচয় ও অবস্থান। রাষ্ট্রকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন একজন ব্যক্তি হিসেবে জনাব আতিকুর রহমান রুমনের আলোচনা হতে পারে - গণতান্ত্রিক দেশ হওয়ার কারণে। কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে তিনি সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে।


একুশে বইমেলার উদ্বোধন করলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

পেশাগত ও রাজনৈতিক জীবনে জনাব আতিকুর রহমান রুমন যেমন সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তেমনি ব্যক্তিজীবনেও স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন। তিনি যখন বগুড়ায় অবস্থান করেন, তখন তাঁকে একনজর দেখার জন্য সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের মাঝে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, তা মূলত তাঁর প্রতি জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসারই এক জীবন্ত প্রতিফলন। ঘরের এই কৃতী সন্তানকে ঘিরে নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-শিশুর যে স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ, তা তাঁর দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সেবারই সার্থকতা। আজ তাঁর এই পর্বতসম জনপ্রিয়তা ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বে ভীত হয়ে একটি কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের যে হীন খেলায় মেতে উঠেছে, তা কি কেবলই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? নাকি তাঁকে গণমানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করার এক গভীর ষড়যন্ত্র? তাঁর জন্য বগুড়াসহ বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ আছেন - নিজের জীবন উৎসর্গ করতে একচুল পিছু হটবেন না। তারা অন্যায়কারীদের নির্মূল করার অনুমতি পেলে গোপনে নয়, নির্মূল করবেন প্রকাশ্যেই।


জনাব আতিকুর রহমান রুমনের সুদীর্ঘ পথচলায় এই প্রতিবেদকের সুযোগ হয়েছে তাঁকে অত্যন্ত কাছে থেকে জানার। শিকড়ের টানে জন্মভূমি বগুড়ায় ফেরার প্রতিটি মুহূর্তে তিনি মিশে গেছেন প্রান্তিক মানুষের ভিড়ে। মেঠো পথের ধুলোবালি মেখে তিনি যখন অসহায় মানুষের দুয়ারে গিয়ে দাঁড়ান, তখন তিনি আর কেবল নেতা থাকেন না, হয়ে ওঠেন ঘরের সন্তান। আর্তমানবতার সেবায় তিনি যখন কোনো সাধারণ মানুষকে পরম আলিঙ্গনে আগলে নেন, তখন তাঁর মাঝে নেতার চেয়েও একজন দরদি অভিভাবকের প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে। মানুষের প্রতি এমন নিঃস্বার্থ দায়বদ্ধতা জনাব আতিকুর রহমান রুমনকে জনসাধারণের হৃদয়রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে।

সমালোচনাকারীরা তাঁকে নিয়ে যে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তা কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ। তারা হয়তো ভুলে গেছেন যে, আতিকুর রহমান রুমন নিজের মেধা, সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, অন্যের দিকে আঙুল তোলার পূর্বে তাদের উচিত নিজেদের কর্মকাণ্ডের কলঙ্কিত অধ্যায় দর্পণে দেখা। নেতাকর্মীদের মতে, "জনাব আতিকুর রহমান রুমনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রমাণ কঠোর প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ প্রায় দেড় যুগেও আনতে পারেনি।" একজন ব্যক্তি সদা নির্ভীক, পরীক্ষিত দেশপ্রেমিক, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে ছোট করার জন্য মিথ্যা ও চরিত্রহননের অপচেষ্টা যদি চলতেই থাকে, তাহলে মানুষের ধৈর্যের বাঁধ যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে।

আতিকুর রহমান রুমন কেনো সাধারণ মানুষসহ বিএনপির প্রতিটি কর্মীর কাছে আত্মার অংশ, তার উত্তর লুকিয়ে আছে তাঁর নিরলস সংগ্রাম ও পরিশ্রমে। ২০০৬ সালের পর থেকে ধারাবাহিক সুদীর্ঘ বছরের পর বছর অগোছালো বিএনপি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরিবারের সাথে বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিজের বুক দিয়ে আগলে রাখতে নিজেরাই বাড়িঘর ছাড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য হারা। কখনো প্রকাশ্যে কখনো অপ্রকাশ্যে এসে সাহস ও সহযোগিতা জুগিয়ে আসছেন মানুষদের। 

বগুড়া জেলার মানুষ হিসেবে রাজধানী ঢাকা শহরে ছিল রুদ্ধ। কেউ সাহস করে আসলে হামলা-মামলা, সন্ত্রাসী দ্বারা অবরুদ্ধ নিত্য ঘটনাবলি। রাজধানীতে থাকতে হয়েছে ঠিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে। এভাবে পার হয়েছে বছরের পর বছর। অবৈধ ফখরুদ্দীন ও মইনুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সরকারের বেসামরিক মোড়কে সামরিক শাসনের ষড়যন্ত্রে ভোট লুটের মাধ্যমে দেশ ও বহির্বিশ্বের নানান ষড়যন্ত্রে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন স্বৈরাচারী সরকারের প্রায় ১৬ বছরের দুঃশাসন - গুম, খুন, অপহরণ, মামলা, হামলা, বাসাবাড়ি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলসহ সর্বসময়ে হয়রানির শিকার বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর সাথে বিশিষ্ট সাংবাদিক জনাব আতিকুর রহমান রুমন।

দলের নেতা-কর্মীরা যখন হামলা, মামলা আর নির্যাতনে দিশেহারা, তখন রুমন ছিলেন সেই মানুষ – যাঁর মোবাইল নম্বরটি ছিল প্রতিটি আর্তনাদ করা লড়াকুর জন্য একটি খোলা দুয়ার। অমানবিক নির্যাতন উপেক্ষা করে তিনি মাটির মানুষ হয়ে মিশে গেছেন সাধারণের মাঝে। বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সেলের আহ্বায়ক হিসেবে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে তিনি গুম, খুন ও পঙ্গুত্বের শিকার নেতাকর্মী এবং অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন নিরলসভাবে, দু’হাতে মানবতা নিয়ে।

পলাতক পৈশাচিক হাসিনার শাসনামলে জনাব আতিকুর রহমান রুমন ছিলেন জিয়া পরিবারের অকুতোভয় যোদ্ধা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে স্বৈরাচারের পতনের পর, ২০২৬ সালের সমৃদ্ধ বাংলাদেশে তিনি এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পূর্বের ন্যায় বর্তমানেও প্রিয় নেতার বিশ্বস্ত ছায়াসঙ্গী হিসেবে তাঁকে পাশে রেখেই বাস্তবায়িত হচ্ছে জনাব তারেক রহমানের স্বপ্নের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ প্রকল্প।

মানবিক সংগঠক জনাব আতিকুর রহমান রুমন একাধারে একজন ক্ষুরধার সাংবাদিক এবং কলামিস্ট। ১৯৯৩ সালে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি নিয়ে তিনি বগুড়ার শাহ সুলতান কলেজে ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতাকে জনসেবার ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় ‘দৈনিক দিনকাল’ ও ‘বিডি প্রেস ডটনেট’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য। ‘দৈনিক দিনকাল’ পত্রিকার বগুড়া ব্যুরো প্রধান থেকে শুরু করে আজ তিনি এই জনপ্রিয় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। প্রিয় নেতার স্থলাভিষিক্ত হওয়া তাঁর জীবনের এক শ্রেষ্ঠ সম্মান। ১৯টিরও বেশি দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ রুমন বর্তমানে জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বও অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করছেন।

সবশেষে বলা যায়, অতিরিক্ত ভাবনা তখনই মহৎ, যখন তা নিজেদের অবস্থান বুঝে সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়; অন্যথায় তা কেবল শব্দের অপচয় হয়ে ইতিহাসের প্রান্তিকতায় হারিয়ে যায়। তাই আজ প্রয়োজন বিভ্রান্তির নয়, প্রয়োজন বিবেকের জাগরণ - নিজেকে প্রশ্ন করার, সত্যকে গ্রহণ করার এবং সুস্থ, সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার। তাই যারা বিভ্রান্তি ছড়াতে ব্যস্ত, তাদের উচিত সত্যকে উপলব্ধি করা এবং নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা। 

জনাব আতিকুর রহমান রুমন কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি এক জীবন্ত আদর্শ, এক অনুপ্রেরণার নাম, এক অবিচল বিশ্বাসের প্রতীক। তাঁর চিন্তা-চেতনা, সততা, মানবিকতা ও দায়বদ্ধতা মানুষের হৃদয়ে যে আলো ছড়িয়েছে, তা কোনো অপপ্রচার বা বিভ্রান্তির ধোঁয়ায় আড়াল করা সম্ভব নয়। কারণ সত্য সবসময়ই নিজের শক্তিতে উজ্জ্বল, আর সেই সত্যের পথেই তিনি অবিচল থেকে মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন। তাঁর সুদীর্ঘ পথচলা আমাদের শেখায় - নিঃস্বার্থ সেবা, দৃঢ় নৈতিকতা এবং মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাই একজন মানুষের জীবনে সত্যিকারের সার্থকতা।

জনাব আতিকুর রহমান রুমনের মতো ব্যক্তিরা কেবল বর্তমানের পথপ্রদর্শক নন, তাঁরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও এক নির্ভরযোগ্য প্রেরণা। তাঁর আদর্শ, কর্ম ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সময়ের সীমানা পেরিয়ে আগামী দিনের পথচলায় সাহস জোগাবে, আস্থা দেবে, আর মানুষকে মানবতার প্রকৃত অর্থ বুঝতে সাহায্য করবে। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ মনে রাখে সেই মানুষগুলোকেই - যাঁরা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে, নিঃশব্দে কাজ করে, এবং নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে জয় করে নেয় মানুষের হৃদয়ের সবচেয়ে গভীর স্থান।