বংশাল ড্রেনেজ প্রকল্প: উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নাকি দীর্ঘস্থায়ী জনদুর্ভোগ?

০১ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী এলাকা পুরান ঢাকা বংশাল ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ঘনবসতিপূর্ণ জনজীবনের জন্য পরিচিত এই অঞ্চল আজ দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, খোঁড়াখুঁড়ি ও অব্যবস্থাপনার কারণে চরম দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, আর ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী।
রাজনৈতিক দলের বিচারের সুপারিশ করতে পারবে ট্রাইব্যুনাল
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে কয়েক বছর আগে যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল, তা এখনো শেষ হয়নি। উন্নয়নের নামে খুঁড়ে রাখা রাস্তা, ভাঙাচোরা চলাচল পথ এবং দীর্ঘসূত্রতায় সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। কোথাও জমে থাকা পানি, কোথাও কাদামাটি, আবার কোথাও খোলা নালা ও অসমাপ্ত নির্মাণকাজ প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
এক পশলা বৃষ্টিই যেন বংশালবাসীর জন্য আতঙ্কের কারণ। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, পথচারী এবং ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনই নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় জমে থাকে। ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জলাবদ্ধতা ও দীর্ঘদিনের খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্রেতারা সহজে দোকানে আসতে পারেন না, পণ্য পরিবহনেও দেখা দেয় নানা জটিলতা। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যদি বছরের পর বছর ধরে চলতেই থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ এর সুফল পাবে কবে? জনগণের করের টাকায় পরিচালিত প্রকল্পের কাজ কেন নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যাচ্ছে না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
বংশালের বাসিন্দারা দ্রুত প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, উন্নয়নের নামে দীর্ঘ ভোগান্তি নয়, বরং কার্যকর পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা হবে।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিরা জনগণের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। নাকি আরও দীর্ঘ সময় ধরে অসমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পের বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে—সেই প্রশ্নই আজ ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।


