রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মাত্র ১৯ দিনেই রায়, আদালতে মুখোমুখি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে আদালতে হাজির করে পুলিশ 


ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আগামী ৭ জুন রায় ঘোষণা করা হবে।


বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ দিন নির্ধারণ করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিচারক দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এজলাসে আসেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। বেলা ১টা ৩৬ মিনিটে উভয় পক্ষের শুনানি শেষ হলে আদালত রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন।
এর আগে সকাল ৯টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। পরে বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে আদালতে আনা হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পিটার গোমেজ জানান, অসুস্থ থাকায় স্বপ্না হাসপাতাল থেকে আদালতে এসেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সোহেল রানাকে দোষী সাব্যস্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা ও বাধা না দেওয়ার অভিযোগে স্বপ্না আক্তারের আইনানুগ শাস্তি দাবি করেন।
তিনি আদালতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা-মায়ের সাক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, ঘটনার শিকার শিশু ও আসামিরা পাশাপাশি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। ঘটনার দিন শিশুটিকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও পরে নির্মমভাবে হত্যা করেন সোহেল রানা। মামলার ১৬ জন সাক্ষীর বক্তব্যেও এ বিষয়টি উঠে এসেছে।
রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, ঘটনার সময় আসামির স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রেখেছিলেন। বাইরে থেকে দরজা খুলতে বলা হলে তিনি শিশুটি সেখানে নেই বলে দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আবু শামার সাক্ষ্যের উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ঘটনার দিন সোহেল রানাকে ভবনের তৃতীয় তলার জানালা বেয়ে নিচে নামতে দেখা যায়। এতে প্রমাণিত হয়, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান।এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির অংশও আদালতে পড়ে শোনায় এবং উল্লেখ করে যে, সেখানে ‘ডলার’ নামে কোনো ব্যক্তির কথা উল্লেখ ছিল না।
আসামিপক্ষের বক্তব্য
বেলা ১টা ৩১ মিনিটে আসামিপক্ষের আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, সোহেল রানা নিজেই জবানবন্দিতে বলেছেন যে তিনি মাদকাসক্ত। একজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির বক্তব্য পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য হতে পারে না, তাই শুধু সেই জবানবন্দির ভিত্তিতে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।তবে রাষ্ট্রপক্ষ এর জবাবে জানায়, ঘটনার সময় কিংবা জবানবন্দি দেওয়ার সময় সোহেল রানা নেশাগ্রস্ত ছিলেন না।
ঘটনার বিবরণ
গত ১৯ মে পল্লবীর একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ফ্ল্যাটের বাথরুমের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান সোহেল রানা। ঘটনাস্থল থেকেই তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে গত ১ জুন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
জবানবন্দিতে যা বলেন সোহেল
গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। পুলিশ জানায়, সেখানে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন।

তবে ১ জুন আদালতে তিনি নতুন দাবি করে বলেন, ‘ডলার’ নামের একজন ব্যক্তি শিশুটিকে ধর্ষণ করেছেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি আদালতকে বলেন, “আমি মারিনি, আমি ধর্ষণও করিনি। আমার স্ত্রীও নির্দোষ।”

পরদিন ২ জুন আদালতে সোহেল রানা আবার বলেন, “আমার সঙ্গে যে ছিল ডলার, তাকে ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা না, আমিও দোষ করেছি, ডলারও দোষ করেছে।”

অন্যদিকে, সরকার নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ আদালতকে জানান, আসামিরা তার কাছে ‘ডলার’ সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি। পাশাপাশি পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদনে ডলার নামের কোনো ব্যক্তির উল্লেখও নেই।