সামাজিক সুরক্ষায় যুক্ত হচ্ছে ৩ নতুন কর্মসূচি, বরাদ্দ ১৪ হাজার ৫১০ কোটি টাকা

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ৯ শতাংশের বেশি, যুক্ত হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড।


সেনা কর্মকর্তার বর্ণনায় ইলিয়াস আলীসহ শতাধিক গুম-হত‍্যা


আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানীসহ নতুন কয়েকটি কর্মসূচি যুক্ত হওয়ায় সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ ৯ শতাংশের বেশি বাড়ছে। এ খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। সে হিসাবে বরাদ্দ বাড়ছে ১১ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা বা ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। আগামী অর্থবছরেও সামাজিক সুরক্ষা খাতের বরাদ্দ জিডিপির ২ দশমিক ০৩ শতাংশের সমপরিমাণ থাকছে।


নতুন তিনটি কর্মসূচির জন্য মোট ১৪ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১২ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য ১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা এবং ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানীর জন্য ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার ওপর। সরকারের ধারণা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করবে।


সরকারের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য নগদ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর উপকারভোগীর সংখ্যা এবং ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হচ্ছে।


সামাজিক সহায়তা খাতে আগামী বাজেটে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৬২ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ৪৭ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ১৫ হাজার ১৪০ কোটি টাকা বা ৩১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এই বরাদ্দ থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মা ও শিশু সহায়তা, বৃত্তি ও উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি পরিচালিত হবে।


অন্যদিকে কৃষি, খাদ্য, ওএমএস ও রেশন খাতে সাধারণ ভর্তুকি কিছুটা কমানো হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এসব খাতে মোট ৩৪ হাজার ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের ৩৪ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকার তুলনায় ৯২০ কোটি টাকা কম।

সামাজিক সুরক্ষা খাতের আওতায় সর্বজনীন রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা, জনকল্যাণ এবং অন্যান্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৫ কোটি টাকা কম। এ ছাড়া শ্রমবাজার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ৪ হাজার ১৭১ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৭৪৫ কোটি টাকা কম।

সব মিলিয়ে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন কর্মসূচি সংযোজন, ভাতা বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য মূল্যস্ফীতির চাপ 

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে
সামাজিক সুরক্ষায়