হাদি হত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিল

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ জুন ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম

শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দেশীয় খুনিদের চিহ্নিতকরণ, পলাতক আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।


ড. ইউনূসের সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ


শুক্রবার (৫ জুন) বাদ জুমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি টিএসসির রাজু ভাস্কর্য প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন ওসমান হাদির সমাধির সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।


মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘বাংলাদেশের আজাদি, ওসমান হাদি’, ‘জানতে চায় জনতা, নাম বলো মমতা’ এবং ‘ইনকিলাবের পতাকায়, হাদি তোমায় দেখা যায়’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করা উচিত ছিল। কিন্তু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা না করে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “সরকার কত দিনের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করবে, সেটি জাতির সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আমাদের পক্ষ থেকে আর কোনো নতুন দফা দেওয়া হবে না। এখন দফা দেবে সরকার। আমাদের আল্টিমেটাম দেওয়ার সময় শেষ। ভবিষ্যতে যদি কোনো আল্টিমেটাম আসে, সেটি হবে চূড়ান্ত আন্দোলনের।”

বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে উত্থাপিত অভিযোগের সমালোচনা করে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই যারা বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন, তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নানা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বট অ্যাকাউন্ট নয়, সরকারের ছাত্রসংগঠনের কিছু নেতাও এসব প্রচারে যুক্ত রয়েছেন।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধ করা না হলে জনগণ মনে করবে, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে।”

হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জানাজার দিন থেকেই তারা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার কথা বলে আসছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তদন্তের নামে এমন কিছু ব্যক্তিকে জড়ানো হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে জাবের বলেন, কী ভিত্তিতে তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সরকারের কাছে দুটি বিষয়ে অবস্থান জানতে চান তারা। এর মধ্যে রয়েছে—জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের বিষয়ে সরকারের অবস্থান এবং এ বিষয়ে জাতিসংঘকে চিঠি দেওয়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তার অগ্রগতি।

তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে এ ঘটনার সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের কিছু পক্ষের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে বিষয়টি কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক মাত্রা পেয়েছে। এ কারণে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক তদন্ত প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অধিকাংশ কর্মকর্তা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলেও কিছু ব্যক্তির কারণে তদন্ত কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না।

সবশেষে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “আমরা সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চাই। তবে উত্থাপিত অভিযোগ ও তথ্যগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

শহীদ ওসমান
হাদি হত্যাকাণ্ডে
বিক্ষোভ মিছিল
ইনকিলাব মঞ্চ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের