বুড়িগঙ্গায় কুমির, গুজবে আতঙ্কিত ঢাকাবাসী
.jpeg)
ছবি : আওয়ার বাংলাদেশ
১৪ জুন ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
সম্প্রতি ডিবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদনে ঢাকার কেরানীগঞ্জ ওয়াশপুর বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে বিশালাকার কুমির দেখার একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে ‘ডিবিসি’ প্রকাশ করেছিল একাধিক স্থানীয় ব্যক্তির বক্তব্য। সে প্রতিবেদনের বক্তব্যে স্থানীয় এক যুবক ক্যামেরায় দেখায় তার মোবাইল দিয়ে তাৎক্ষণিক সে কুমিরের ছবি তুলেছিল। এক নারী বক্তব্য দেন, তিনি নিজে দেখেছেন কুমিরকে। যার কারণে সে নদীতে গোসল করতে পারেন নাই। অন্য আরেক এলাকাবাসী বক্তব্য দেন, ৫-৬ ফিট তার মতো লম্বা-চওড়া কুমির ছিল।
বজ্রপাতে ৪ জেলায় ৯ জন নিহত
একই খবর প্রচার করেন ‘কেরানীগঞ্জ নিউজ’সহ একাধিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল।
সেই সূত্র ধরে দৈনিক আওয়ার বাংলাদেশ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার দুইদিন পর গত ৯ জুন সরেজমিন অনুসন্ধানে যায়। সে অঞ্চলের রাস্তায় পৌঁছামাত্রই এলাকাবাসী দৈনিক আওয়ার বাংলাদেশের সাংবাদিকদের দেখে একটি হাসি দিয়ে বলেন, ‘ভাই যে খবরের জন্য এসেছেন তা ছিল গুজব।’ এ কথা শুনা মাত্রই দৈনিক আওয়ার বাংলাদেশ খোঁজ করা শুরু করে সেই সকল ব্যক্তিদের, যারা ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বক্তব্য দিয়ে সত্যায়িত করেছিলেন নদীতে কুমির দেখার বিষয়টি।
দিনের আলো থেকে সন্ধ্যা আঁধার নেমে এলো। এক এক করে দৈনিক আওয়ার বাংলাদেশ টিম সেসকল ব্যক্তিদের খুঁজে বের করলো, যারা কুমির দেখার বর্ণনা দিয়েছিলেন। অতঃপর কুমিরের সন্ধানে সেখানে যেন ‘পাহাড় খুঁড়তে গিয়ে ইঁদুর’ পাওয়া গেলো। যুবক-যুবতী, বয়স্ক যারাই ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলেছিলেন- কুমির দেখেছেন বুড়িগঙ্গা নদীতে, তারাই এখন বলছেন- হুজুগের মাথায় কথাটি বলে দিয়েছিলেন। কথাটি বাস্তবতার সাথে কোনো সত্যতা নেই। এটি কেবল গুজবমাত্র।
বুড়িগঙ্গা নদী, যে নদীতে পাওয়া যেত আগে বিশাল বিশাল ডলফিনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেখানে এখন শিং মাছ, কৈ, শ্যাওলা কচুরিপানা ও আবর্জনা ব্যতীত অন্য মাছ পাওয়া দায়। কিন্তু সেখানে এক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সংবাদের বলা হয়েছে- বুড়িগঙ্গা নদীতে নাকি কুমির দেখা গিয়েছে! এ খবর কতটুকু সত্য যাচাই না করেই সংবাদ প্রকাশ হলো!
যে নদীতে খাওয়ার উপযোগী মাছই পাওয়া যায় না, সেখানে কুমির দেখার গল্পটির সত্যতা যাচাই না করে কীভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়ে যায়! এটা কি অবহেলা? নাকি গুজব তথ্যকে ভাইরাল কনটেন্ট বানিয়ে ডলার আয় করার একটি ব্যবসায়িক কৌশল?
সকল ঘটনাই খবর নয়, কিন্তু সকল খবরই ঘটনা। খবর সেটাই, যেটা জনস্বার্থে কাজে আসে। ব্যক্তিস্বার্থ কখনোই সাংবাদিকতা হতে পারে না। যথাযথ প্রমাণ ও সত্যতা যাচাই না করে সংবাদ প্রকাশ করা কি শুধুই অবহেলা, নাকি গুজব রটিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা দেশের জনগণ ও সাংবাদিকতার মতো বিশ্বস্ত, পবিত্র পেশার সঙ্গে ছলনা?


