অশ্লীলতায় বিলীন ওয়ারির বলধা গার্ডেন

ছবি : আওয়ার বাংলাদেশ

সাহিল আহমেদ রুদ্র

১৪ জুন ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

ঢাকায় সবুজের সমারোহে ঘেরা ওয়ারীর বলধা গার্ডেন। যেখানে সাধারণ মানুষ আসে প্রশান্তির খোঁজে। সেখানে এখন পা রাখা দায়। চারদিকে তাকালেই চোখে পড়ে জোড়ায় জোড়ায় বসে থাকা যুগলদের অশোভন আচরণ। অনুসন্ধানে ধরা পড়ে ভয়ংকর কিছু চিত্র। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে মাঝবয়সী—অবিবাহিত এসব যুগল গার্ডেনে গাছপালার আড়ালে লিপ্ত পরকীয়া আর অশ্লীলতায়। কিন্তু যখনই আমাদের ক্যামেরা তাদের সামনে যায়, শুরু হয় পলায়ন পর্ব। আর তখনই বেরিয়ে আসে এক অদ্ভুত কাহিনী। এই পলায়ন পর্বের মধ্য দিয়েই অভিযুক্তদের পক্ষে সাংবাদিকদের গার্ডেনের ভেতরে তালাবদ্ধ করে রাখলেন খোদ ইজারাদার কর্তৃপক্ষ!


এবারের ঈদযাত্রায় নিহত ৩৯০

অভিযুক্তরা যখন গার্ডেনের কর্তৃপক্ষের কাছে যায়, সাংবাদিকদের হাতে ভিডিও আকারে প্রমাণ থাকার পরেও প্রবেশ গেটে তালা দিয়ে সাংবাদিকদের ভেতরে রাখার আদেশ দেন ইজারাদার। দৈনিক আওয়ার বাংলাদেশের সাংবাদিকরা ইজারাদার সাথে কথা বললে পাল্টা হুমকি দেন ইজারাদার। তিনি নিজেই নাকি ‘দিগন্ত ধারা’র ক্রাইম রিপোর্টার ছিলেন ২০ বছর। তার পার্কে ঢোকার জন্য সাংবাদিকদের নাকি বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন!


কার অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে হবে- প্রশ্নের জবাবে তিনি বন বিভাগের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। যেখানে পার্কের বিভিন্ন স্থানে লেখা আপত্তিকর অবস্থায় কাউকে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেখানে উল্টো ইজারাদার কর্তৃপক্ষের শুভাকাঙ্ক্ষীরা পার্কে এসে সাংবাদিকদের সাথে বিভিন্নভাবে কৌশলে কথা বলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না করেই তাদের যেতে দেন!

এ বিষয়ে দৈনিক আওয়ার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিকুর রহমান ইজারাদারের সাথে যোগাযোগ করলে মুঠোফোনে তিনি তার পরিচিতির পরিবর্তন ঘটান। দিগন্ত ধারার সাংবাদিক থেকে বনে যান অ্যাডভোকেট। একপর্যায়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে ইজারাদার শরিফুল বলেন, এ বিষয়ে সরাসরি কিউরেটর এবং বন বিভাগের সাথে যোগাযোগ করতে।

একটি সামাজিক পর্যটন কেন্দ্রে প্রতিনিয়ত এ রকম অশ্লীল কর্মকাণ্ড ঘটে যাওয়ার পিছনে মূলহোতা কে? তার সন্ধানে দৈনিক আওয়ার বাংলাদেশ টিম পৌঁছে যায় আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বন বিভাগ মন্ত্রণালয়। এবার শুরু হলো উলোর দোষ কুলোর ঘাড়ে।

বন বিভাগের পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার পিএস জানান, তিনি বোর্ড মিটিংয়ে ব্যস্ত। তখন গণমাধ্যমকর্মীরা বন বিভাগের পরিচালকের পিএসের সাথে এ বিষয়ে আলাপ করলে তিনি বলেন, জনসংযোগ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে জিজ্ঞাসা করতে। কেননা, বলধা গার্ডেন ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের তদারকির জন্য পরিচালক নিয়োজিত আছেন।

অতঃপর গণসংযোগ কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করলে প্রশ্নটি ঘুরে গেল বোটানিক্যাল গার্ডেন ও বলধা গার্ডেনের পরিচালক ইমরান আরাফাতের দিকে।

বোটানিক্যাল গার্ডেন ও বলধা গার্ডেন এর পরিচালক ইমরান আরাফাতের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কিউরেটরের সাথে যোগাযোগ করতে। কিউরেটর তাসলিমা বেগম নাকি বলদা গার্ডেনের ওখানেই বসবাস করেন, সুতরাং গার্ডেনে যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই তাসলিমা বেগমকে পাওয়া যাবে।

সত্যের সন্ধানে কিউরেটরের খোঁজে বলধা গার্ডেনে গেলে কর্তব্যরতরা করেন গড়িমসি। কোনোভাবেই তারা কিউরেটরের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিতে অথবা ফোন নাম্বার পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত নয়। শেষমেষ আবার বলদা গার্ডেনের পরিচালক ইমরান আরাফাতের সাথে যোগাযোগ করে পাওয়া গেল তাসলিমা বেগমকে। মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করলে কিউরেটর তাসলিমা বেগম গণমাধ্যমকর্মীকে জানান, বিগত চারদিন যাবৎ সে দায়িত্বে নেই। তার সন্তান সালাউদ্দিন হাসপাতালে অসুস্থ এবং সেখানে ভর্তি রয়েছেন। বিগত চারদিন যাবৎ সন্তানের সাথেই তিনি হাসপাতালে রয়েছেন। গার্ডেনে কী হচ্ছে- এ বিষয়ে তার কোনো ধারণাও নেই। কিন্তু তিনি থাকা অবস্থায় কখনো এরূপ ঘটনা ঘটে নাই। যেহেতু তার অনুপস্থিতিতে এরূপ ঘটনা ঘটেছে সুতরাং এ বিষয়ে ইজারাদার ও গার্ডেনের সিকিউরিটির কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে একটি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা দেন গণমাধ্যম কর্মীদের। 

দিনশেষে ঘটনা যেখানে শুরু হয়েছিলো সেখানেই শেষ হচ্ছে। ঘুরেফিরে বন বিভাগ মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে কিউরেটের পর্যন্ত যাওয়ার পর সমস্ত দায়বদ্ধতা যেন আবার ইজারাদারের ওপর এসে পড়ল। নোংরামি-অশ্লীলতার কারণে যদি এ রকমভাবেই পর্যটন কেন্দ্রগুলো অসামাজিক পরিবেশে পরিণত হতে থাকে তাহলে দেশে শিশু সন্তানেরা বেড়ে উঠবে কোথায়? শহরের বুকে প্রকৃতির উষ্ণতা পাবে কোথায়? এরূপ অনৈতিকতায় বিলীন হতে থাকলে আগামী প্রজন্মের জন্য শহরের বুকে বিনোদন কেন্দ্র টিকে থাকবে কীভাবে?