সড়ক ও জনপদের নিজাম মালিক হয়েছেন শতকোটি টাকার সম্পদের!

সড়ক বিভাগের নিজাম উদ্দিন- "পেশায় সরকারি কর্মচারী, নেশায় অবৈধ উপায়ে অর্থলোভী"

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৪ জুন ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় প্রত্যেক কর্মকর্তা দেশ ও জনগণের সেবায় নীতি-নৈতিকতা আর ঈমানের সাথে কাজ করার শপথ নেন। কিন্তু যশোরের সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট রিসোর্স অফিসার নিজাম উদ্দিন যেন সেই শপথমালার উল্টো পথে হেঁটে গড়েছেন দুর্নীতির পাহাড়। সরকারি এই কর্মকর্তার দায়িত্ব ছিল সড়কের মান নিয়ন্ত্রণ করা। অথচ অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, দায়িত্ব পালন তো দূরের কথা, তিনি মাসে মাত্র ৫ দিন অফিসে আসেন। বাকি সময়টুকু তিনি ব্যস্ত থাকেন নিজের সম্পদের পাহাড় গড়তে।


গণভোটের ব্যালট পেপার হবে রঙিন : ইসি সচিব

চাকরির পোস্টিং যশোরে হলেও তিনি বসবাস করেন ঢাকয়। অফিস প্রধানের সহযোগিতায় ডিউটি না করেও স্বাক্ষর করিয়ে নেন রেজিস্টার খাতায়। যেহেতু তিনি মাঠপর্যায়ের সড়ক ও জনপদের রাস্তা-ঘাট ও বিভিন্ন প্রকল্পের গুণগতমান ও গবেষণার গুরু দায়িত্বে রয়েছেন, সেই সুযোগেই নিম্নমানের ম্যাটেরিয়ালস দিয়ে তৈরির গুণগতমান সঠিক বলে স্বাক্ষর করে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। গড়ে তুলেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়।


​১৪ থেকে ১৬তম গ্রেডে ২০১৫ নীতিমালা অনুযায়ী, একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট রিসোর্স অফিসারের সর্বোচ্চ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেতন হওয়ার কথা, কিন্তু এই পদে চাকরিতে বহাল নিজাম উদ্দিনের মালিকানায় মিরপুর-১ এ রয়েছে একাধিক স্থাবর সম্পত্তি। পাইকপাড়া এলাকায় ৩১/১৭ নম্বর হোল্ডিং এর বন্ধন টাওয়ারে একাধিক ফ্ল্যাট, মিরপুর ১ এর গোলচত্তরে মুক্ত বাংলা শপিংমলে প্রায় দুই কোটি টাকা বিনিয়োগ করা ও শপিংমলের নিচতলায় ৮৬ নং নিউ বৈশাখী শাড়ি মেলা দোকানটাও তার। দক্ষিণ বিশিলে ৯ নম্বর রোডের ১৪৪/১ ইসলাম মঞ্জিলের বিপরীত ভবনে তার আরো ১টি ফ্লাট রয়েছে। উত্তরা দিয়াবাড়ি মেট্রোরেলের উত্তর পাশে দুটি প্লট এবং সাভারের হেমায়েতপুরে প্রায় ১০ কাঠা জমি রয়েছে তার। এ ছাড়াও নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ জমি রয়েছে তার।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থে ছেলে ও মেয়ের বিয়েতে ৪০ ভরি স্বর্ণ আর ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন তিনি।

​গবেষণার দায়িত্বপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা যখন কালো টাকার বিনিময়ে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রীকে অনুমোদন দেন, তখন ঝুঁকিতে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন ও সরকারি অর্থ। এ রকম দুর্নীতি কি তবে সরকারি চাকরির আড়ালে বৈধতা পাচ্ছে? নাকি সত্য প্রকাশ হবে এই কালো টাকার অর্জনের উৎস?

দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে, তার সকল সম্পদের কথা স্বীকার করলেও সেগুলো তিনি বৈধভাবে উপার্জন করেছেন বলে জানান। ছাত্রজীবন থেকে টিউশনি করে টাকা জমিয়ে সম্পদ গড়েছেন বলেও দাবি করেন নিজাম উদ্দিন।