ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রে উপচেপড়া ভিড়
কেন ছুটছেন বাংলাদেশিরা?

ছবি : সংগৃহীত
০২ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য আবারও ট্যুরিস্ট (পর্যটন) ভিসা চালু করেছে ভারত। ঘোষণা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার ভিসাকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
জামায়াত, এনসিপিসহ ৪ দলকে সতর্ক করল ইসি
কেন এত ভিড়?
মূল কারণগুলো হলো—
চিকিৎসা : কম খরচে উন্নত চিকিৎসার জন্য বহু বাংলাদেশির প্রথম পছন্দ ভারত।
আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা : পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় থাকা আত্মীয়দের কাছে যাওয়ার সুযোগ।
কেনাকাটা ও ভ্রমণ : বিশেষ করে কলকাতাকেন্দ্রিক কেনাকাটা ও পর্যটন।
দুই বছরের অপেক্ষা : দীর্ঘদিন ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় বিপুল সংখ্যক আবেদন জমে ছিল।
কীভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হলো?
২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারত ট্যুরিস্ট ভিসা স্থগিত করে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ২০২৬ সালের ২৮ জুন পুনরায় ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপরই একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ আবেদন করতে শুরু করেন।
চিকিৎসা কেন বড় কারণ?
ভাষাগত সুবিধা, তুলনামূলক কম খরচ এবং কলকাতা, চেন্নাই, দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর হাসপাতালগুলোর প্রতি আস্থার কারণে বাংলাদেশিদের বড় অংশ চিকিৎসার জন্য ভারত বেছে নেন। গত দুই বছরে অনেককে বিকল্প হিসেবে চীন, থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরে যেতে হলেও সেগুলো তুলনামূলক ব্যয়বহুল ছিল।
এর প্রভাব কী হতে পারে?
ভারতগামী বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে।
কলকাতাসহ সীমান্তবর্তী শহরের হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খুচরা ব্যবসায় নতুন গতি আসতে পারে।
দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে।
মোটকথা, রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও চিকিৎসা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভ্রমণের বাস্তব প্রয়োজনের কারণে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হতেই বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি আবেদন করছেন।


