পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি থাকে?

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৩ এএম

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর তিনি আইনের ঊর্ধ্বে থাকেন কি না—এ প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবিধান বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাষ্ট্রপতির জন্য থাকা সাংবিধানিক দায়মুক্তি কেবল দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের জন্য প্রযোজ্য। পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষ হলে সেই সুরক্ষা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকে না।


তিন সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তির বিধান রয়েছে। এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার সাংবিধানিক ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো আদালতের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। এছাড়া রাষ্ট্রপতির কার্যকাল চলাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের বা পরিচালনা করা যায় না। একই সময়ে তাকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোরও সুযোগ নেই।


তবে এই সুরক্ষা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সময়কাল পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের ওই বিশেষ দায়মুক্তি আর প্রযোজ্য থাকে না। ফলে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ফৌজদারি বা দেওয়ানি কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধা থাকে না। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে নেওয়া সিদ্ধান্তের বিচারযোগ্যতা প্রতিটি ঘটনার প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট আইন এবং আদালতের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করবে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এহসান কবির বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তির ধারণার ঐতিহাসিক ভিত্তি ব্রিটিশ সাংবিধানিক নীতি ‘দ্য কিং ক্যান ডু নো রং’। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই নীতি রাষ্ট্রপ্রধানকে ব্যক্তিগত সুবিধা দেওয়ার জন্য নয়; বরং রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য একটি সাময়িক সাংবিধানিক সুরক্ষায় পরিণত হয়েছে।

তার ভাষায়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদও সেই দর্শনের প্রতিফলন। তবে এটি রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত বা আজীবন বিশেষাধিকার নয়; বরং কেবল দায়িত্ব পালনকালীন একটি সাংবিধানিক সুরক্ষা।

আইনজীবী আরও বলেন, পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষে সাবেক রাষ্ট্রপতি নীতিগতভাবে অন্য সব নাগরিকের মতোই আইনের শাসনের আওতায় আসতে পারেন। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গৃহীত সাংবিধানিক কর্মকাণ্ডের বিচারযোগ্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আইন, সংবিধান এবং আদালতের ব্যাখ্যাই চূড়ান্ত বিবেচ্য হবে।