গণমাধ্যমে ভুল তথ্যের ছড়াছড়ি

রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণ

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

দেশের গণমাধ্যমে বেড়েছে ভুল তথ্যের ছড়াছড়ি। রিউমর স্ক্যানারের নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন উদ্বেগজনক চিত্র। ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসে ১৭৭টি গণমাধ্যমের ৬৮১টি প্রতিবেদন যাচাই করে ১৪৬টি ঘটনায় ভুল তথ্যের প্রমাণ মিলেছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪টি এবং প্রতি মাসে ১১৩টির বেশি ভুল সংবাদ শনাক্ত হয়েছে। অন্যভাবে বললে, যাচাই করা প্রতি ৫টি প্রতিবেদনের মধ্যে একটি ছিল ভুল বা বিভ্রান্তিকর।


৯১.৭% সহিংসতা বিএনপি, ২০.৭% আ’লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত

ভুল তথ্য ছড়ানোর তালিকার শীর্ষে দৈনিক ইনকিলাব। গত ছয় মাসে পত্রিকাটির ২১টি ভুল প্রতিবেদন ধরা পড়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দৈনিক ইত্তেফাক—১৯টি। তৃতীয় স্থানে যৌথভাবে দৈনিক যুগান্তর ও বিডি24রিপোর্ট—১৪টি করে। এরপর রয়েছে বাংলাদেশ টাইমস ১৩টি, কালবেলা ১২টি, রূপালী বাংলাদেশ ১১টি এবং বৈশাখী টিভি ও বার্তা বাজার—১০টি করে ভুল তথ্য ছড়িয়েছে।


পরিসংখ্যান বলছে, যমুনা টিভি, একাত্তর টিভি, ডিবিসি নিউজ, সময়ের আলো ও মানবকণ্ঠ—প্রতিটির ৯টি। সময় টিভি, বাংলাদেশ প্রতিদিন, এনপিবি নিউজ, বিডি টুডে—৮টি করে এবং চ্যানেল 24, আমার দেশ, আজকের পত্রিকা, ডেইলি সান, খবরের কাগজ, ফেস দ্যা পিপল, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, দ্য নিউজ, বাংলা টিভি, ঢাকা টাইমস, দৈনিক সকাল ও ঢাকা টুডে—৭টি করে ভুল তথ্য প্রকাশ করেছে...

তবে শুধু সংখ্যাই নয়, ভুলের ধরনও উদ্বেগের। সবচেয়ে বেশি ভুল হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদে। ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে, আর রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য পাওয়া গেছে। সবচেয়ে আলোচিত ভুল ছিল লক্ষ্মীপুরে নিহত এক নারীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দাবি করা, যা প্রকাশ করেছিল ৬৭টি গণমাধ্যম।

রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণ বলছে, পুরোনো ভিডিওকে নতুন ঘটনা হিসেবে চালানো, এআই-তৈরি ছবি ও সাজানো ভিডিওকে বাস্তব বলে প্রকাশ, ভুয়া মন্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য যাচাই না করেই সংবাদ প্রকাশ—এসবই এখন ভুল তথ্যের সবচেয়ে বড় উৎস। এমনকি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিটিভি, বাংলাদেশ বেতার ও বাসস, পাশাপাশি বিবিসি ও ডয়চে ভেলের মতো আন্তর্জাতিক কয়েকটি বাংলা গণমাধ্যমেরও ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে বলে নজির পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত খবর প্রকাশের প্রতিযোগিতায় যদি তথ্য যাচাই পিছিয়ে পড়ে তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতার। আর সেই সতর্কবার্তাই যেন নতুন করে তুলে ধরেছে রিউমর স্ক্যানারের এই প্রতিবেদন।