প্যারালিগ্যালদের কাজ শুধু পেশা নয়, জনসেবার দায়িত্ব : আইনমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত
০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
প্যারালিগ্যালদের কাজ কেবল একটি পেশা নয়, বরং জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, মানুষের দোরগোড়ায় আইনগত সেবা ও অধিকার পৌঁছে দিয়ে ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে প্যারালিগ্যালরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
ফিলিস্তিনের পক্ষে উত্তাল ঢাকা
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের ক্রাউন প্লাজা ঢাকায় বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদফতর (ডিবিএলএ) ও ফ্রেন্ডশিপের যৌথ উদ্যোগে প্রণীত ‘ফ্রেন্ডশিপ কমিউনিটি প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আইনজীবী হওয়ার আগেই তিনি প্যারালিগ্যাল হিসেবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে আইনগত সচেতনতা তৈরির কাজ করেছেন। তাই প্যারালিগ্যালদের ভূমিকা ও গুরুত্ব সম্পর্কে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত তথ্য ও সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্যারালিগ্যালরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ফ্রেন্ডশিপের কার্যক্রমের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এবং রূপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে অধিকারবিষয়ক সচেতনতা পৌঁছে দিতে সংস্থাটি যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতি প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক ব্যয় কমিয়ে উপকারভোগীদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানান, যাতে প্রান্তিক মানুষ আরও বেশি উপকৃত হতে পারেন।
প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালকে আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করার পরামর্শ দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সহজ ভাষা, চিত্র ও সারসংক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়গুলো উপস্থাপন করলে মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্যারালিগ্যালদের জন্য এটি আরও কার্যকর হবে। পাশাপাশি মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, প্রতিকার পাওয়ার উপায় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সম্পর্কে সহজবোধ্য তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, প্যারালিগ্যালদের নিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতা নিয়ে মানুষের পাশে থাকতে হবে। এটি শুধু চাকরি নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জনসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আন্তরিকতা ও অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার প্রতিও মানুষের আস্থা বাড়বে।
ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েস, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসাইন এবং ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র পরিচালক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিকত্ব বিভাগের প্রধান আয়েশা তাসিন খান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘ফ্রেন্ডশিপ কমিউনিটি প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল’ তৃণমূল পর্যায়ে প্যারালিগ্যালদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আইনগত সচেতনতা সম্প্রসারণ এবং ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্যারালিগ্যালদের জন্য এটি একটি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সহায়িকা হিসেবে ব্যবহৃত হবে।


