অবশেষে গ্যাস নিয়ে বড় সুখবর

প্রতীকী ছবি
১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাসসংকটের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের দুটি ভাসমান টার্মিনালের মধ্যে সামিট পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেট এনার্জি আংশিকভাবে চালু হওয়ায় শনিবার ভোর থেকে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। তবে সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে না : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার ভোর ৪টা থেকে সামিটের টার্মিনাল থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান বলেন, বর্তমানে দুটি টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক সক্ষমতায় গ্যাস দিচ্ছে। সরবরাহ বাড়ায় গ্রাহকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশে গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর প্রভাব পড়ে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিং বেড়ে যায়। পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে গত ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। তবে শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ত্রুটি মেরামতের পর আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। এটি চালুর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে। এ সময় প্রায় ৭২ ঘণ্টা সরবরাহ বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কবে এই কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করা হয়নি।
অন্যদিকে এলএনজি সংকটের কারণে গত সোমবার সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার তা ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত সরবরাহ ছিল প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
শুক্রবার বিকেলে ভিটলের একটি এলএনজিবাহী জাহাজ বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়। প্রায় আট ঘণ্টা পর খালাস শেষ হয়। এর আগেই সন্ধ্যা ৬টা থেকে টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে সামিট। শুরুতে সরবরাহ ছিল সাড়ে ৯ কোটি ঘনফুট। পরে শনিবার ভোরে তা বেড়ে ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। প্রয়োজনে আরও ৭ থেকে ৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ বাড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে সামিটের।
এর আগে সৌদি আরামকোর একটি এলএনজিবাহী জাহাজ বাংলাদেশে এলেও সেটি থেকে গ্যাস নেওয়া সম্ভব হয়নি। জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। পরে সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণেও জাহাজটি থেকে এলএনজি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত জাহাজটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরামকোর পক্ষ থেকে নতুন একটি এলএনজিবাহী জাহাজ পাঠানোর কথা রয়েছে।
বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ৩০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা গেলে মোটামুটি সব খাতে সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব। স্বাভাবিক সময়ে রেশনিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।
শুক্রবার বিকেলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ১৭৩ কোটি ঘনফুটে নেমে গিয়েছিল। সামিট ও এক্সিলারেটের সরবরাহ বাড়ায় বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুট হয়েছে। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনো দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এক্সিলারেটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে গ্যাসের ঘাটতি আরও কমবে। তবে জ্বালানি সংকটের তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান এখনো নেই। বৃষ্টি ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কম থাকায় লোডশেডিংও কমেছে। তবে গরম বাড়লে আবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


