আসামি ও পুলিশ কর্মকর্তার একই শার্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন

রংপুরে ৪ খুন

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:২০ পিএম

রংপুর মহানগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জেলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। গ্রেপ্তার আসামি সিদ্ধার্থের পরনের শার্টের সঙ্গে মরদেহ উদ্ধারের দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার পরনের শার্টের হুবহু মিল থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।


২৮ বাংলাদেশি ভারতে আটক

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক গণমাধ্যমকর্মী বলেন, মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তীর পরনে থাকা শার্টটির সঙ্গে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থের শার্টের রং ও নকশায় মিল রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা হচ্ছে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘আসামির শার্টের রঙের সঙ্গে মিলছে বলে কি আমি এই শার্ট পরব না? আমি চিন্তা করছি, এই শার্ট আগামী সাত দিন পরে থাকব।’ এ সময় ভিডিও কলে তাকে ওই শার্ট পরা অবস্থায় অফিস করতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের দুজনের বাড়িই মাছুয়াপাড়া এলাকায়। পুলিশের ভাষ্য, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর ওই ভবনে বসে গ্রেপ্তার দুজন ইয়াবা সেবন করেন। তবে হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে ঘটনাস্থলে কারা ছিলেন এবং কীভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে।

রংপুরের স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমের ফেসবুক লাইভে প্রকাশিত ভিডিওতেও একজনকে মাস্ক পরা অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনায় তাকে পুলিশ কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী হিসেবে শনাক্ত করা হচ্ছে।

এদিকে রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল পাঁচটার দিকে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তারা রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বলেন, তারা নিজেদের দায় স্বীকার করায় আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।