ভোটে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই, এনসিপিকে ড. ইউনূস

ছবি : সংগৃহীত
১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনও ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচন দেশের ভাগ্য নির্ধারণের এবং দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন, তাই একে যেকোনো মূল্যে সুষ্ঠু হতে হবে।
ভয়ের কোনো কারণ নেই, নির্বাচন হবেই: তারেক রহমান
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তা বিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা। সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ তৈয়্যব।
বৈঠকে এনসিপি নেতারা বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে তাদের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগের কথা জানান। তারা নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচন সম্পর্কিত যে-কোনও অভিযোগ বা পরামর্শ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকার আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রশাসনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা থাকবে, যা সরাসরি কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটর করা হবে।
বৈঠকে এনসিপি নেতৃবৃন্দ জানান, গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে তাদের দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন প্রয়োজন এবং এর ফলে কী হবে— তা আমরা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। আমরা সব রাজনৈতিক দলকেও এই প্রক্রিয়ায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনকে উৎসবমুখর করা সরকার, কমিশন ও রাজনৈতিক দল— সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে তিনি সব দলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।


