বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে দিতে চাই : শফিকুর রহমান

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘চব্বিশ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছাত্র-জনতা ও যুবকদের কাছে ঋণী। তাঁদের কারণে আমরা আজ এখানে এসেছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুবকদের হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। আপনাদের হাত ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’


নজিরবিহীন ভরাডুবি জাতীয় পার্টির

আজ শনিবার দুপুরে নিজ জন্মস্থান মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। উপজেলার নবীন চন্দ্র (এনসি) উচ্চবিদ্যালয়ের এই মাঠে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের এই সমাবেশ হয়।


শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই বাংলাদেশ চাই না, যেখানে চাঁদাবাজে অতিষ্ঠ দেশ, যেখানে আমার মায়ের ইজ্জত নেই, যেখানে দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ, যেখানে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হয়। এই বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ নয়। এই বাংলাদেশকে তাড়িয়ে দিতে চাই। মনে করতে পারেন, তাহলে কেমন বাংলাদেশ হবে? বলতে চাই, এই বাংলাদেশ থাকবে, মানচিত্র ঠিক থাকবে শুধু চেহারা পাল্টে দিতে চাই। ১২ তারিখ ৩০০ আসন নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশ কোন পথ ধরে চলবে। আমরা মা-বোনের নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই, আমরা শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চাই, আমরা কৃষকের বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘এই মৌলভীবাজারের কুলাউড়া আমার জন্মস্থান। আমার এলাকার সকল ধর্ম-বর্ণের ভাই-বোনদের বুকে আগলে চলতে চাই। আমরা হিন্দু, মুসলিম, খাসিয়াসহ সবাই পরস্পরের সঙ্গে বন্ধুত্বের আচরণ করেছিলাম, এখনো তা করব।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ, বাঁচিয়ে রাখলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের মতো সিলেট বিমানবন্দরকে (উন্নত) করা হবে। কারণ, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সিলেটের মানুষ মহান যুদ্ধের আগে থেকেই বহু অবদান রাখছে।’

প্রবাসীদের উদ্দেশ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘কোনো প্রবাসী যদি প্রবাসে মারা যায়, তাহলে যত টাকা খরচ করে প্রবাসে গিয়েছে, সেই টাকা উপার্জন করার আগে প্রবাসে মৃতুবরণ করলে আমরা সেই টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তাঁর পরিবারের দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র।’

চা-শ্রমিকদের নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি যেখানে যাই, তাঁদের আমি ভুলি না। কারণ, চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে আমার জন্ম, তাঁদের আমি ভুলতে পারি না। আমরা তাঁদের জন্য সুস্বাস্থ্য ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করব। আমরা চাই না শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে। আমরা চাই, শ্রমিক ভাইয়ের সন্তান মেধাবী হলে আগামীর রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হবে। আমরা ওই দেশটাই গড়ে তুলতে চাই। তাঁদের সন্তানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দায়িত্ব কেন বাগানমালিককে নিতে হবে? আমরা নির্বাচিত হলে তাদের এই দায়িত্ব নেব।’