চট্রগ্রাম বন্দরে পাঁচ মাসে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১১ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে রাজস্ব আদায়ও। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। শুরুতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯২ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে চট্টগ্রাম কাস্টমস থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে রেকর্ড ৩১ হাজার ৬০২ দশমিক ৩৭ কোটি টাকা।


স্টক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির বনভোজন

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, "প্রতি বছর আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বাড়ানো হয়। সে অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ চলছে। রমজান সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের আমদানি বাড়ছে, ফলে আমদানি ও শুল্কায়নযোগ্য মূল্যও বেড়েছে। আশা করছি, লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করা যাবে।" তবে চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, "কাস্টমসের সেবায় এখনও বিভিন্ন জায়গায় বিড়ম্বনা রয়েছে। মাঝে মাঝে সার্ভার ডাউন, পণ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা থাকছে। এসব সমস্যা সমাধান হলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সহজ হবে বলে আশা করছি।"


এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, প্রতি বছরই বন্দরের সক্ষমতা বাড়ছে। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের মোট পণ্য আমদানি–রপ্তানির প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনারবাহী পণ্যের ৯৮ শতাংশ হ্যান্ডলিং করে। ২০২৫ সালে বন্দরে ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউএস কনটেইনার, ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন কার্গো এবং ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় কনটেইনার ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪২ টিইইউএস, কার্গো ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ মেট্রিক টন এবং জাহাজ ৪০৬টি বেশি হ্যান্ডলিং হয়েছে। এতে কনটেইনারে ৪ দশমিক ০৭ শতাংশ, কার্গোতে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জাহাজে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আধুনিক পোর্ট ইকোসিস্টেম, পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, ডিজিটালাইজেশন ও আধুনিকীকরণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরকে বিশ্বমানের বন্দরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউএস কোস্টগার্ড আইপিএসের অফিসিয়াল রিপোর্টে বন্দরের বিষয়ে জিরো অবজারভেশন পাওয়া গেছে।

২০২৫ সালে বন্দরে ৭০ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে এবং নতুন হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। ভারী কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য লালদিয়া (ব্লক এ, উত্তর) এলাকায় নতুন জেটি নির্মাণাধীন রয়েছে। পাশাপাশি বে টার্মিনালে একটি মাল্টিপারপাস ও দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি জিটুজি পদ্ধতিতে পিএসএ (সিঙ্গাপুর) এবং অপরটি ডিপি ওয়ার্ল্ড (দুবাই) পরিচালনা করবে।