চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড : বছরে আয় ৫ হাজার ৪৬০ কোটি

নিউজ ডেস্ক

১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:২৬ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্তে নতুন রেকর্ড হয়েছে। ২০২৫ সালে বন্দরটির আয় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রেখে রাজস্ব উদ্বৃত্তও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।


এখনো স্থিতিশীল নয় চালের বাজার

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বন্দরের রাজস্ব ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ফলে ওই বছরে রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা আগের সব বছরের তুলনায় বেশি।


শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২১ থেকে ২০২৫—এই পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয়ে গড়ে ১৩ দশমিক ০৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একই সময়ে রাজস্ব উদ্বৃত্তের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। সেবার মান বজায় রেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর ফলেই এ সাফল্য এসেছে বলে দাবি তাদের।

গত কয়েক বছরের আয়-ব্যয়ের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে বন্দরের আয় ছিল ৫ হাজার ৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ব্যয় ২ হাজার ১৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং উদ্বৃত্ত ২ হাজার ৯২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে উদ্বৃত্ত ছিল ২ হাজার ১৪৩ কোটি ১১ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ১ হাজার ৭৩৪ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ১ হাজার ৬৩৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছর ব্যয় বৃদ্ধির হার এক অঙ্কের মধ্যে সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ, আর ২০২৪ সালে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে ২০২৩ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ।

গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সরকারকে কর, ভ্যাট ও কর-বহির্ভূত আয় (এনটিআর) হিসেবে মোট ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা জমা দিয়েছে। এর মধ্যে কর হিসেবে ৩ হাজার ৫৫৩ কোটি ৮ লাখ টাকা, ভ্যাট হিসেবে ৩ হাজার ৪২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং কর-বহির্ভূত আয় হিসেবে ৬০০ কোটি টাকা রয়েছে।

শুধু ২০২৫ সালেই সরকারকে জমা দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালে এ অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের মতে, ব্যয় সাশ্রয় ও ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ফলে চট্টগ্রাম বন্দর দেশের রাজস্ব আয়ে ধারাবাহিক অবদান রাখতে পারছে।