খলিফা ওমরের ঈদ শপিং

ছবি : সংগৃহীত
১৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
মদিনার অলিতে-গলিতে তখন ঈদের আমেজ। ঈদ উপলক্ষে মদিনার ঘরে ঘরে বইছে অনাবিল খুশির হাওয়া। বাচ্চাদের জন্য বানানো হচ্ছে নতুন নতুন জামাকাপড়। আর মাত্র এক দিন বাকি ঈদের!
কোন দেশে রোজার সময় কত ঘণ্টা?
এদিকে খলিফা ওমর (রা.)-এর ঘরে ঈদের কোনো আনন্দ নেই। নতুন জামাকাপড় বানানোর হিড়িকও নেই।
ঈদের আগের দিন খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর স্ত্রী উম্মে কুলসুম তাকে বললেন, “আমাদের জন্য ঈদের নতুন কাপড় না হলেও চলবে, কিন্তু ছোট বাচ্চাটি ঈদের নতুন কাপড়ের জন্য কাঁদছে।”
খলিফা বললেন, “আমার নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই।” খলিফা-পত্নী উম্মে কুলসুম তাকে আগামী মাসের বেতন থেকে অগ্রিম নেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন।
তখন সাহাবি হযরত আবু উবাইদা (রা.) মদিনার রাষ্ট্রীয় কোষাগার ‘বায়তুল মাল’-এর দায়িত্বে ছিলেন। খলিফা ওমর (রা.) হযরত আবু উবাইদাকে এক মাসের অগ্রিম বেতন দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠালেন।
সমগ্র মুসলিম জাহানের খলিফা—যিনি অর্ধ পৃথিবী শাসন করছেন—তার এমন চিঠি পেয়ে আবু উবাইদা (রা.)-এর চোখে পানি এসে গেল।
উম্মতে আমীন হযরত আবু উবাইদা (রা.) বাহকের মাধ্যমে টাকা না পাঠিয়ে সিদ্ধান্ত জানতে চেয়ে একটি চিঠি লিখলেন, “আমীরুল মুমিনীন! অগ্রিম বেতন বরাদ্দের আগে দুটি বিষয়ে আপনাকে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। প্রথমত, আগামী মাস পর্যন্ত আপনি বেঁচে থাকবেন কি-না?
দ্বিতীয়ত, বেঁচে থাকলেও আপনি খিলাফতের দায়িত্বে বহাল থাকবেন কি-না?”
হযরত আবু উবাইদার চিঠি পড়ে হযরত ওমর (রা.) অঝোরে কাঁদলেন। চোখের পানিতে তার দাড়ি ভিজে গেল। তিনি হাত তুলে দোয়া করলেন, “আল্লাহ আবু উবাইদার ওপর রহম করুন, তাকে হায়াত দান করুন।”
স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “প্রত্যেক জাতির একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি আছেন; আমার উম্মতের বিশ্বস্ত ব্যক্তি হচ্ছেন আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা.)।”


