রবির আর্থিক কার্যক্রম অনুসন্ধানের নির্দেশ বিএসইসির

ছবি : সংগৃহীত
০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা পিএলসির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি মনিরুল কারাগারে
বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে সম্প্রতি জারি করা এক বিশেষ আদেশে অনুসন্ধানের পরিধি ও শর্তাবলি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে কোম্পানিটির সাম্প্রতিক আর্থিক কার্যক্রম, তথ্য প্রকাশের যথার্থতা এবং বিদ্যমান আইন ও বিধি পরিপালনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে পরিচালন ব্যয় মূলধনি ব্যয় (ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার) হিসেবে দেখানোর অভিযোগ রয়েছে রবির বিরুদ্ধে। এতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র আড়াল করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। পাশাপাশি এ ধরনের হিসাবপদ্ধতির মাধ্যমে কী পরিমাণ অনিয়ম হয়েছে, কারা এর সুবিধাভোগী এবং এর আর্থিক প্রভাব কতটা— এসব বিষয়ও অনুসন্ধানে খতিয়ে দেখা হবে।
এ ক্ষেত্রে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) এবং অডিট কমিটির ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন।
সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেনও তদন্তে
অনুসন্ধানে রবির চেয়ারম্যান থায়াপারান এস সাংগারাপিল্লাইয়ের দ্বৈত ভূমিকার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টাওয়ার অবকাঠামো কোম্পানি ইডটকো গ্রুপের পরিচালক ছিলেন।
রবি ও ইডটকোর মধ্যে হওয়া বিভিন্ন লেনদেন, ইজারা চুক্তি ও শেয়ার হস্তান্তর স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি এসব লেনদেনের মাধ্যমে রবি থেকে মূল কোম্পানি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সম্পদ, আয় বা মুনাফা অস্বচ্ছ বা অনিয়মিত উপায়ে সরানো হয়েছে কি না, সেটিও অনুসন্ধানে খতিয়ে দেখা হবে।
করপোরেট সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন
বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, কোম্পানির দুই স্বতন্ত্র পরিচালক আখতার সানজিদা কাশেম ও কামরান বকর পদত্যাগ করেন। তাদের পদত্যাগের পেছনে ‘অযাচিত হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ উঠেছে, যা অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে।
এছাড়া চেয়ারম্যান সাংগারাপিল্লাইয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত অভ্যন্তরীণ তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে পূর্বে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ওই তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ ছিল, তা যাচাই করা হবে।
রবির পরিচালনা পর্ষদ ও তদন্ত কমিটি স্বাভাবিক বিচারনীতি, নিরপেক্ষতা এবং শেয়ারহোল্ডার সুরক্ষার নীতিমালা অনুসরণ করেছে কি না, সেটিও তদন্তে পর্যালোচনা করা হবে।
তথ্য প্রকাশে অনিয়মের অভিযোগ
রবি আজিয়াটার ২০২১ ও ২০২২ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়েছে কি না, তাও তদন্তে খতিয়ে দেখবে বিএসইসি। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেন এবং গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য প্রকাশে বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
এছাড়া সর্বশেষ বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) এ শেয়ারহোল্ডারদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্ন, বিশেষ করে আইনি ব্যয় ও ফরেনসিক তদন্ত ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব না দেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিএসইসি জানিয়েছে, অনুসন্ধান চলাকালে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট অন্য যেকোনও বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে।


