ফেঁসে যাচ্ছেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যাওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দাবি, রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি শেষ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।


এশিয়াটিকের সব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি মামলায় আদালত এরই মধ্যে অন্য অভিযুক্তদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকায় তখন মো. সাহাবুদ্দিনের নাম আদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এখন তিনি পদত্যাগ করায় তার ক্ষেত্রেও একই ধরনের আদেশ চাওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে সাহাবুদ্দিন জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিচালক এবং পরে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

জুলাই-পরবর্তী সময়ে ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ শেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে আদালতের শরণাপন্ন হয়। ওই আবেদনের পর হাইকোর্ট ২০২৫ সালের ১১ মার্চ একাধিক নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে ছিল—সাবেক পরিচালকদের আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং জেএমসি বিল্ডার্সের শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্সের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় এবং এস আলম গ্রুপের স্বার্থ রক্ষার প্রক্রিয়ায় সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা ছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চারটি স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানেও তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে বিচারাধীন এবং চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

ইসলামী ব্যাংকের আইন শাখার কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি থাকায় সাংবিধানিক দায়মুক্তির কারণে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন তিনি আর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে না থাকায় প্রয়োজন হলে আদালতে নতুন আবেদন করা হবে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫১(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি কার্যধারা শুরু বা চালিয়ে যাওয়া যায় না এবং তাকে গ্রেপ্তার বা কারাবন্দি করার জন্য আদালত পরোয়ানাও জারি করতে পারে না।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ শেয়ার কিনে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জেএমসি বিল্ডার্স প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৮১২টি শেয়ার কিনেছিল, যার মূল্য ছিল প্রায় ১০২ কোটি টাকা। তদন্তে অর্থের উৎস হিসেবে এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তরের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান কর্তৃপক্ষ সাহাবুদ্দিনসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে শেয়ার জালিয়াতি, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং ব্যাংকের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামলা করে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদে থাকাকালে সাংবিধানিক দায়মুক্তি কার্যকর থাকলেও পদত্যাগের পর সেই সুরক্ষা আর বহাল থাকে না। তবে অভিযোগের সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করবে আদালতের চূড়ান্ত রায়। তাই এ পর্যায়ে তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।