ভারতকে হারিয়ে ফাইনালের পথে বাংলাদেশ

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

সাফ অনূর্ধ্ব–১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে ২–০ গোলে হারিয়ে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। শুরুতে কিছুটা চাপে থাকলেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় পিটার বাটলারের শিষ্যরা। প্রথমার্ধে করা দুই গোলই শেষ পর্যন্ত জয়ের ব্যবধান গড়ে দেয়।


আইরিশদের হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ

ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১২–০ গোলের বিশাল জয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। সেই আত্মবিশ্বাস দ্বিতীয় ম্যাচেও ধরে রাখে তারা। চার দলের গ্রুপে টানা দুই জয়ে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে লাল–সবুজের প্রতিনিধিরা। এক জয় ও এক হার নিয়ে ৩ পয়েন্টে দ্বিতীয় স্থানে ভারত। অন্যদিকে নেপাল ও ভুটান এখনো পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি।


এই লিগভিত্তিক আসরে প্রতিটি দল একবার করে একে অপরের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ পর্ব শেষে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দুই দল খেলবে ফাইনালে। বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ আগামী বুধবার নেপালের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ড্র করলেও ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

রঙ্গশালা স্টেডিয়ামের ম্যাচের শুরুতে আক্রমণাত্মক ছিল ভারত। পঞ্চম মিনিটেই গোলের সুযোগ তৈরি করে তারা। থ্রু পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন প্রীতিকা, তবে বাংলাদেশের গোলরক্ষক দ্রুত বের হয়ে এসে কোণ ছোট করে দেন। শেষ মুহূর্তে নেওয়া শট লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন ভারতীয় ফরোয়ার্ড। পরের মিনিটেই উড়ন্ত বলে হেড নিতে পারলে এগিয়ে যেতে পারত ভারত, কিন্তু পার্ল ফার্নান্দেজ সেটি কাজে লাগাতে পারেননি।

সময় বাড়ার সঙ্গে খেলায় ছন্দ খুঁজে পায় বাংলাদেশ। বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলেন মামনি চাকমা। ২৯ মিনিটে তাঁর নেওয়া দারুণ এক ফ্রি–কিক থেকেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। কর্নারের কাছাকাছি জায়গা থেকে সরাসরি শট নেন মামনি। ভারতীয় গোলকিপার মুন্নি বল ফিস্ট করে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা ঠিকমতো দূরে সরাতে পারেননি। ফিরতি বলে অর্পিতা দ্রুত পা ছুঁইয়ে জালে পাঠান বল।

৩৭ মিনিটে কোচ পিটার বাটলার জোড়া পরিবর্তন আনেন। মাঠে নামেন বন্যা খাতুন ও শান্তি মার্ডি। ভালো খেলতে থাকা মামনি ও ক্রানুচিং মারমাকে তুলে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তে বোঝা যায়, দল শুধু জয় নয়—বিভিন্ন খেলোয়াড়কে যাচাই করতেও গুরুত্ব দিচ্ছে কোচিং স্টাফ।

৪০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। ডান দিক দিয়ে তৃষ্ণা রানীর দারুণ ক্রস প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের এড়িয়ে পায়ে লাগান আলপি। ভুটানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা এই ফরোয়ার্ড দলকে এনে দেন দ্বিতীয় গোলের উল্লাস। প্রতিযোগিতায় এটি ছিল তাঁর চতুর্থ গোল। ঘরোয়া লিগেও দারুণ ফর্মে থাকা আলপি আট ম্যাচে করেছিলেন ২৫ গোল।

৪২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের সুবর্ণ সুযোগ পান আলপি। পূজার লম্বা পাস হেডে নামিয়ে গোলমুখে দাঁড়িয়ে চিপ শট নিলেও বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে প্রীতিকার জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ধরে ফেলেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগম। প্রথমার্ধ শেষ হয় বাংলাদেশের ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে।

বিরতির পর ভারতের পাল্টা চেষ্টাও ছিল চোখে পড়ার মতো। ৪৯ মিনিটে অধিনায়ক জুলান নংমাইথেমের ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে বাংলাদেশও বসে থাকেনি। ৫৬ মিনিটে ভারতের ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দূরপাল্লার শক্তিশালী শট নেন মুনকি, কিন্তু কর্নারের বিনিময়ে দলকে রক্ষা করেন গোলকিপার মুন্নি।

শেষ দিকে দুই দলই গোলের খোঁজে আক্রমণ চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ২–০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।