যে কারণে কম দৌঁড়ান মেসি

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম

একটা মানুষ মাঠে হাঁটছে। দৌঁড়াচ্ছে না, ছুটছে না শুধু হাঁটছে। আর সেই মানুষটাকে থামাতে পারছে না কেউ। লিওনেল মেসি। যার পায়ে বল গেলে বিপক্ষ দলের ডিফেন্ডারদের চোখে অন্ধকার নেমে আসে। কিন্তু আজকের মেসি আর সেই মেসি নন। মহাতারকা এখন মাঠে হাঁটেন, ঘোরেন, এদিক-ওদিক তাকান। সমালোচকেরা বলেন, মেসির বয়স বাড়ছে।


বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা

কিন্তু এখন সবাই বুঝে গেছে এটা মাথার খেলা। মেসি দৌঁড়াচ্ছেন না, কারণ তার দরকারই নেই। মায়েস্ত্রো এখন মাথা দিয়ে খেলেন, শুধু পা দিয়ে নয়। বয়স বাড়ছে। শরীর বলছে, এত দৌঁড় আর হবে না। মেসি সেই কথা শুনেছেন, কিন্তু মাথা নত করেননি। বরং নিজেকে রূপান্তরিত করেছেন। মহাতারকা হয়ে উঠেছেন একজন ‘এনগাঞ্চে’। আর্জেন্টাইন ফুটবলের এই বিশেষ ভূমিকায় থাকা খেলোয়াড় নিজে কম গোল করেন, কিন্তু অন্যদের দিয়ে গোল করান। নিজে আলোয় ভাসেন না, অন্যদের আলো ছড়াতে সাহায্য করেন। এই সময়ে মেসি শিখেছেন, কীভাবে একটি দলকে কাঁধে নিতে হয়। শিখেছেন, মহত্ত্ব মানে শুধু একা খেলা নয়; মহত্ত্ব মানে পুরো দলকে মহৎ করে তোলা।


মেসি এখন দলের ‘কোয়ার্টারব্যাক’, অনেকটা আমেরিকান ফুটবলের মতো। তিনি নিজে সবকিছু করেন না, কিন্তু কে কোথায় যাবে, কখন পাস দিতে হবে, কখন দৌঁড়াতে হবে সব সিদ্ধান্ত যেন তার মাথাতেই তৈরি হয়। মাঠে মেসি এখন খুব একটা দৌঁড়ান না। কিন্তু বল যখনই তার পায়ে আসে, তখন মনে হয় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক বাকি সবার চেয়ে অন্তত তিন সেকেন্ড আগে সবকিছু দেখতে পাচ্ছেন। যখন তিনি হাঁটেন, তখন আসলে তার মাথাই সবচেয়ে বেশি কাজ করে। প্রতিপক্ষ কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, দলের কাঠামো কেমন, মার্কার থেকে কীভাবে সরে যাওয়া যায় এসব তিনি সেই মুহূর্তে বিশ্লেষণ করেন। আর যখন বল তার কাছে ফিরে আসে, তখন তিনি থাকেন ঠিক সেই জায়গায়, যেখান থেকে আক্রমণ শুরু করা যায়।

মেসি মাঠে হাঁটেন। গড়িমসি করেন। এদিক-ওদিক তাকান। আর হঠাৎ করেই দর্শকেরা অবাক হয়ে যান। সেই পাসটা কোথা থেকে এলো? গোলটা হলো কীভাবে? সবাই ভাবছিল, মেসি বুড়ো হয়ে গেছেন। আসলে তিনি আরও চতুর হয়ে গেছেন। শক্তি জমিয়ে রাখেন, সঠিক মুহূর্তে ব্যবহার করেন। এটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এটাই একজন মাস্টারের পরিচয়।ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও এমন একটি দল নিয়ে এসেছে, যাদের খেলোয়াড়েরা একে অপরকে প্রায় চোখ বন্ধ করেই চিনে। তবে শারীরিকভাবে সবাই হয়তো একেবারে সেরা অবস্থায় নেই। ক্লাব ফুটবলে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর মৌসুম শেষে কয়েকজন খেলোয়াড় চোটের সমস্যায়ও পড়েছেন।

তবে সবাই ফিট থাকলে কোচ লিওনেল স্কালোনি কাতারে বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়কেই একাদশে রাখবেন। তার পরিকল্পনা চার-তিন-তিন ফরমেশন ধরে রাখা। যেখানে দুই সেন্টার ব্যাক ও দুই আক্রমণাত্মক ফুল ব্যাক নিয়ে গড়া শক্তিশালী রক্ষণভাগ থাকবে। পাশাপাশি থাকবে চমৎকার পাসিং ক্ষমতাসম্পন্ন ও গতিশীল মিডফিল্ড।

আক্রমণভাগের নেতৃত্বে থাকবেন লিওনেল মেসি। তাকে সহযোগিতা করবেন হুলিয়ান আলভারেজ ও থিয়াগো আলমাদা। আলমাদা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ‘ব্রেকআউট স্টার’ হতে পারেন। ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ খেলোয়াড় এবারও দলে আছেন। তবে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন কয়েকজন সম্ভাবনাময় তরুণ ফুটবলার। তাদের মধ্যে অন্যতম নিকো পাস, যিনি দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। আছেন লাওতারো মার্তিনেসের মতো প্রতিষ্ঠিত তারকাও।

লিওনেল মেসি এখনও এই দলের প্রাণভোমরা। সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা। তিনি এখন এমন একটি লিগে খেলছেন, যা বিশ্বের সেরা লিগগুলোর কাতারে পড়ে না। তবু ১০ নম্বর জার্সি গায়ে অধিনায়ক মেসিই থাকেন সবার দৃষ্টির কেন্দ্রে। তবে আগের তুলনায় একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। এই দল এখন মেসিকে ছাড়াও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। সাহস নিয়ে লড়াই করতে পারে। মেসি এই দলের প্রতীক, এই দলের অনুপ্রেরণা। রদ্রিগো দি পল কিংবা ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর মতো অভিজ্ঞ যোদ্ধা থেকে শুরু করে নিকো পাসের মতো উদীয়মান তরুণ সবাই তাকে হৃদয়ে ধারণ করে মাঠে নামে।সবার কাছে মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তী।

লিওনেল মেসি
আর্জেন্টিনা
ফুটবল বিশ্লেষণ
মেসির খেলা