স্পেনের হাতে বিশ্বকাপ, আনন্দের ঢেউ ফিলিস্তিনে

ছবি : সংগৃহীত
২১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনজুড়ে উদ্যাপনের ঢেউ দেখা গেছে। অনেক ফিলিস্তিনি এই জয়কে শুধু ক্রীড়া সাফল্য নয়, বরং ফিলিস্তিনের প্রতি স্পেনের রাজনৈতিক সমর্থনের প্রতীক হিসেবেও দেখছেন।
সেরা দশে মোস্তাফিজ, ১৩৩ ধাপ এগোলেন সাইফ
রোমাঞ্চকর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় স্পেন। ম্যাচ শেষে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি গ্রহণ করেন স্প্যানিশ দলের খেলোয়াড়রা।
বিশ্বকাপ জয়ের পর গাজা উপত্যকাসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ উল্লাসে মেতে ওঠেন। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেকেই তাঁবু বা খোলা স্থানে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করেন। শেষ বাঁশি বাজার পর স্প্যানিশ পতাকা হাতে উদ্যাপন করেন বহু তরুণ-তরুণী ও শিশু।
ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক অঙ্গনেও স্পেনের এই জয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে অভিনন্দন জানান। হামাসও এক বিবৃতিতে স্পেনের জয়কে স্বাগত জানায়। এছাড়া পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে স্প্যানিশ ও ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে বিজয় মিছিল বের হয়। কয়েকজন ফিলিস্তিনি কার্টুনিস্ট স্পেনের খেলোয়াড়দের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা আঁকা চিত্র প্রকাশ করে দুই দেশের সংহতির বার্তা তুলে ধরেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনে এই উচ্ছ্বাসের পেছনে রয়েছে স্পেনের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অবস্থান। ২০২৪ সালে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ইসরাইলের বিরুদ্ধে কিছু কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং ফিলিস্তিনের জন্য সহায়তা বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেয় দেশটি।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের প্রকাশ্য ইসরাইল-সমর্থনও অনেক ফিলিস্তিনির দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে স্পেনের বিশ্বকাপ জয় ফিলিস্তিনের অনেক মানুষের কাছে শুধু একটি ফুটবল ট্রফি জয়ের ঘটনা নয়; এটি তাদের প্রতি সমর্থন জানানো একটি দেশের সাফল্য হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে।


