গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ মামলা

অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা কিংবদন্তি বাউল শিল্পী শাহ আবদুল করিম। দেশের আনাচে-কানাচে ছাড়াও সারাবিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে তার গানগুলো।

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২০ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:২৫ পিএম

শাহ আবদুল করিমের গান অনুমতি ছা্ড়া ব্যবহার করার অভিযোগে টেলিকম কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেড (জিপি)-এর বিরুদ্ধে গত ২৭ আগস্ট আইনি নোটিস পাঠানো হয়। শাহ আবদুল করিমের পুত্র শাহ নূরজালাল-এর পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার রাজিন আহমেদ (আ্যডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান-এর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে এ নোটিস প্রদান করেন। 


বিদায় নিয়েছে উইন্ডোজ ১০

নোটিসে বলা হয়, গ্রামীণফোন অনুমতি, লাইসেন্স বা স্বীকৃতি ছাড়া শাহ আবদুল করিমের কপিরাইটকৃত গান টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করেছে—এর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ সালের একটি টিভিসি (ইউটিউবে আপলোডকৃত) এবং ২০২২ সালের একটি বিজ্ঞাপন (ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রচারিত)। কপিরাইটকৃত সংগীতকর্ম অনুমতি ছাড়া পুনরুৎপাদন ও সম্প্রচার। শাহ আবদুল করিমকে কৃতিত্ব না দিয়ে তার নৈতিক অধিকারের লঙ্ঘন। জিপির ফোরজি প্রচারণায় ব্যাপক বাণিজ্যিক লাভসহ সংগীতকর্মের অতিরিক্ত বাণিজ্যিক ব্যবহার। প্রকৃত কপিরাইটধারীর ক্ষতির বিনিময়ে অন্যায়ভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ।


নোটিসে আরও দাবি করা হয়, শাহ আবদুল করিমের গান অবিলম্বে অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ইউটিউব, ফেসবুক টেলিভিশনসহ সব প্ল্যাটফর্ম থেকে লঙ্ঘনকারী কন্টেন্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করতে হবে। শাহ আবদুল করিমকে লেখক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ কোটি টাকা (প্রতিটি গান অনুযায়ী ১০ কোটি টাকা) প্রদান করতে হবে। ভবিষ্যতে এমন লঙ্ঘন আর না করার বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

এরপর ছয় সপ্তাহ সময় চেয়ে আইনি নোটিসের জবাব দেয় গ্রামীণফোন। বিষয়টি নিয়ে শাহ আবদুল করিমের পরিবার সন্তুষ্ট না হওয়ায় এবার ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহীসহ মোট ৯ জনকে আসামী করে ঢাকা জেলা জজ আদালতে বাদী হয়ে দেওয়ানি মামলা করেছেন শাহ আবদুল করিমের পুত্র শাহ নূরজালাল। মামলা নং-৪৫/২০২৫।

বাদীপক্ষের আইনজীবি মো: মনিরুজ্জামান মারুফ (অ্যাডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) বলেন, ‘কপিরাইট আইন ২০২৩ এর ৭৭ ধারা এবং অন্যান্য প্রতিকার চেয়ে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে গ্রামীনফোনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে।’

আইনি নোটিস প্রদানকারী ব্যারিস্টার রাজিন আহমেদ বলেন, ‘শাহ আবদুল করিমের গান কেবল সংগীত নয়— এগুলো বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অংশ। ‘রঙিলা বাড়ৈ’, ‘কোন মিস্তরি নাও বানাইছে’ দুইটি গান ব্যাবহার করেছে গ্রামীণেফোন। অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার কেবল অবৈধ নয়, বরং চরম অসম্মানজনক। আমরা তার উত্তরাধিকার রক্ষায় আইনের সর্বোচ্চ ব্যবস্থাই গ্রহণ করব।’

শাহ আবদুল করিমের ছেলে শাহ নূরজালাল বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষ। আইন-কানুন অতোটা বুঝিনা। বাবার সব গান কপিরাইট করা আছে। এমনি অনেকেই গান করেন সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে গান ব্যবহার করলে আমাদের অনুমতি নেওয়াতো উচিত। সেখান থেকে যে আয় হয় তারও একটা অংশ আমাদের দেওয়া উচিত। গ্রামীনফোন বাবার গান বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করেছে অথচ তারা আমাদের কোনো অনুমতি নেয়নি। প্রথমে তাদেরকে আইনি নোটিস দেয়া হয়েছি। সেটার প্রতিকার না পেয়ে বাধ্য হয়ে মামলা করেছি।’