বিদায় নিয়েছে উইন্ডোজ ১০

১৯ অক্টোবর ২০২৫, ০২:২৩ পিএম
উইন্ডোজ-১০ এখন অতীত। এখন থেকে অপারেটিং সিস্টেমটি আর কোনো নতুন ফিচার পাবে না, নিরাপত্তা আপডেটের সময়ও শেষ। নির্মাতাদের এখন থেকে উইন্ডোজ ১১-এর জন্য সফটওয়্যার বানাতে হবে, ধীরে ধীরে নতুন কোনো সফটওয়্যারই আর উইন্ডোজ ১০-এর মাধ্যমে চলবে না। এ বছরের জুন পর্যন্ত পিসি ব্যবহারকারীদের বেশির ভাগ উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করছিল।
ফ্যাক্ট চেকিং শিখে ফেলুন সহজেই
এখনো বিশ্বের ৪০ শতাংশেরও বেশি পিসিতে ব্যবহৃত হচ্ছে উইন্ডোজ-১০। এই ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন কারণে উইন্ডোজ-১১ ব্যবহার করতে নারাজ, অবশ্য অনেক পিসি উইন্ডোজ ১১ সমর্থনও করে না। উইন্ডোজ ১১ নিয়ে ব্যবহারকারীদের অভিযোগের শেষ নেই। পিসির সব তথ্যে মাইক্রোসফটের নজরদারি, শক্তিশালী হলেও পুরনো পিসি সমর্থন না করা, এআইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার, অনলাইন মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট ছাড়া ব্যবহারের উপায় না থাকা—এসব নিয়েই উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারকারীরা ১১-তে আপগ্রেড করতে চাইছে না।
এখন পর্যন্ত পিসির জন্য প্রকাশিত মোট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সংস্করণ ১১টি। সব সংস্করণ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি, কিছু ক্ষেত্রে বলা যায় ব্যবহারকারীদের কাছে হয়ে উঠেছিল ঘৃণার পাত্র। অনেক কারিগরি সমস্যার জন্য উইন্ডোজ এমই ও উইন্ডোজ ভিস্তা কখনোই জনপ্রিয়তা পায়নি, অনেক ব্যবহারকারী ভিস্তা বদলে উল্টো ফিরেছিল এক্সপিতে।
উইন্ডোজ-৮ ছিল পিসি অপারেটিং সিস্টেম বাজারে মাইক্রোসফটের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।
উইন্ডোজের পুরো ইন্টারফেসে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যা বেশির ভাগ ব্যবহারকারীর পছন্দ হয়নি। ইন্টারফেসটি সাজানো হয়েছিল ট্যাবলেটে ব্যবহারের জন্য, মাউস এবং কি-বোর্ডের উপযোগী ছিল না। পুরনো ইন্টারফেসে যত দ্রুত সম্ভব ফিরে যাওয়ার জন্যই উইন্ডোজ ১০ তৈরি করা হয়েছিল।
শুরুতে উইন্ডোজ ১০ নিয়েও ব্যবহারকারীরা খুশি ছিল না। স্টার্ট মেন্যুর মধ্যে অ্যাপের বদলে ডকুমেন্ট, বিভিন্ন অ্যাপের উইজেট এবং বিজ্ঞাপন দেখনো নিয়ে বহুদিন পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা নাখোশ ছিল।
পুরনো সাদামাটা স্টার্ট মেন্যু ফেরানোর জন্য বেশ কয়েকটি থার্ড পার্টি অ্যাপও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। অতিরিক্ত র্যাম ব্যবহার, সার্চ ঠিকমতো কাজ না করা, প্রয়োজনীয় অনেক অপশন সেটিংস মেন্যু আর কন্ট্রোল প্যানেলের মধ্যে ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় রাখা—এমন খুঁটিনাটি অনেক কিছুর কারণে উইন্ডোজ ১০ নিয়েও ব্যবহারকারীরা ছিল হতাশ। বেশ কয়েকটি বড় আপডেটের মাধ্যমে ধীরে ধীরে উইন্ডোজ ১০-এর অনেক সমস্যার সমাধান করে মাইক্রোসফট। উইন্ডোজ ১০-এর মোবাইল সংস্করণও বাজারে এনেছিল মাইক্রোসফট। যদিও সেটি অ্যানড্রয়েড বা আইওএসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি।
মাইক্রোসফট যখন উইন্ডোজ ১১-এর ঘোষণা দেয়, অনেক ব্যবহারকারী হয়েছিল অবাক। নতুন সংস্করণের হার্ডওয়্যার রিকোয়ারমেন্টস দেখে চোখ কপালে তুলেছিল অনেকেই। অষ্টম প্রজন্মের ইন্টেল কোর অথবা তৃতীয় প্রজন্মের এএমডি রাইজেন প্রসেসর এবং ট্রাস্টেড প্ল্যাটফর্ম মডিউল ছাড়া চলবে না উইন্ডোজ ১১—এমন ঘোষণায় বিক্ষুব্ধ হয়েছিল অনেকেই। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১১ উন্মোচন করেছিল ২০২১-এর ২৪ জুন, তখন অষ্টম প্রজন্মের ইন্টেল প্রসেসর বাজারে আসার পর পেরিয়েছে মাত্র সাড়ে তিন বছর। বেশির ভাগ ব্যবহারকারীর আরামসে চতুর্থ বা ষষ্ঠ প্রজন্মের প্রসেসরযুক্ত পিসি দিয়েই কাজ বা গেমিং দুটোই চলে যাচ্ছে, উইন্ডোজ ১১-এর রিকোয়ারমেন্টগুলো তাদের চোখে মনে হয়েছে নতুন পিসি কেনার বাড়তি চাপ। এর সঙ্গে একে একে যোগ হয় অনলাইন মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা ও এআই কোপাইলট চাপিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা। ফলে উইন্ডোজ ১১ ব্যবহারে চরম অনীহা সৃষ্টি হয়েছে।
যারা একেবারেই উইন্ডোজ ১০ ছাড়তে নারাজ, তারা চাইলে ৩০ ডলার চার্জের বিনিময় আরো এক বছর নিরাপত্তা আপডেট কিনতে পারবে। তবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নিবাসীদের জন্য আপডেটগুলো ফ্রি।
মজার বিষয়, উইন্ডোজ ১০ আপডেট বন্ধ হওয়ার পর উল্টো উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার বেড়েছে। ব্যবহারকারীরা বলছে, যদি নিরাপত্তাহীন, আপডেট ও নতুন সফটওয়্যারবিহীন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে তারা বাধ্য হয়, তাহলে ১০ নয় বরং উইন্ডোজ ৭ ভালো। ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপত্তার খাতিরে অনেকে পিসিতে লিনাক্স ব্যবহার শুরু করেছে। ফলে অনেক ব্যক্তি বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রেমীর ফোরামে মন্তব্য করেছে, ‘লিনাক্স ব্যবহারে উৎসাহী করার জন্য উইন্ডোজ ১১-এর চেয়ে ভালো বিজ্ঞাপন আর একটিও নেই’।
ধরে নেওয়া যায়, অন্তত আরো এক বছর উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারে কোনো সমস্যা হবে না। কেননা এ সময় সবাই না পেলেও অন্তত কিছু ব্যবহারকারী নিরাপত্তা আপডেট পাবেন, তাই সফটওয়্যার নির্মাতারা উইন্ডোজ ১০ সমর্থন করা একেবারে বন্ধ করবে না। তবে ২০২৭ সালের পর উইন্ডোজ ১০ সমর্থিত সফটওয়্যার খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। পিসি সুরক্ষিত রাখতে হলে অবশ্যই হালনাগাদ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা উচিত, সেটি হোক উইন্ডোজ বা লিনাক্স।
উইন্ডোজ ১০ ছিল শেষ উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম, যা পুরোপুরি অফলাইনে ব্যবহার করা যেত। এতে কোনো অনলাইন সেবা বা এআই ফিচার ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই। উইন্ডোজ ১০ এর সঙ্গে আমরা বিদায় জানাচ্ছি পুরোপুরি অফলাইনে ব্যবহারযোগ্য পিসিকেও। ভবিষ্যতে ইন্টারনেটবিহীন উইন্ডোজ পিসির দেখা আর মিলবে না।


