ইকরাকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ জাহের আলভীর

ছবি : সংগৃহীত
০৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
ছোটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনও চলছে সমালোচনার ঝড়। এরই মধ্যে ইকরার স্বামী আলভী এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে করলেন বিস্ফোরক অভিযোগ।
শাকিব খানের জুটি হানিয়া আমির
শুক্রবার (৬ মার্চ) মধ্যরাতে আলভী তার পোস্টে ইকরার আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন এবং তদন্তে সেসব বিষয় খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
আলভীর দাবি, তার স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যার বিষয়টি নিয়ে যদি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয় তবে আইনের প্রতি সম্মান রেখেই তা মেনে নেবেন তিনি। ইকরার আরেকটি বিয়ে ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও তোলেন তিনি।
আলভী জানান, তার বাসার ড্রয়িং ও ডাইনিংয়ে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, যার নিয়ন্ত্রণ কখনই তার কাছে ছিল না। ক্যামেরাটির নিয়ন্ত্রণ ছিল ইকরার মোবাইল ফোনে। বর্তমানে সেই ফোনটি পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভির সঙ্গে সংযুক্ত ডিভাইসের তালিকা পরীক্ষা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
আলভীর ভাষ্যমতে, ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ সন্ধ্যার পর ইকরার কিছু বন্ধু তার বাসায় এসেছিলেন, যার ভিডিও ফুটেজ সিসিটিভিতে থাকার কথা। ২৫ ও ২৬ তারিখে ইকরার এক বান্ধবী এবং ২৭ তারিখে দুই বান্ধবী ও এক পুরুষ বন্ধু বাসায় এসে মধ্যরাত পর্যন্ত ছিলেন। ওই সময় তারা ধূমপান, গাঁজা সেবন ও মদ্যপান করে। আত্মহত্যার আগের দিন ইকরা তার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধও আনিয়েছিলেন। আলভীর সহকারী এসব বিষয়ে পুলিশের কাছে ইতোমধ্যে জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ওই তিন দিনের সিসিটিভি ফুটেজ যেন কোনোভাবেই মুছে ফেলা না হয় এবং যদি তা সরানো হয়, তবে এর সুষ্ঠু তদন্ত করার অনুরোধ করেন আলভী। ঘটনার আগের কয়েক দিন ইকরার আচরণ স্বাভাবিক ছিল না এবং অতীতে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও আলভী দাবি করেন।
তিনি বলেন, ইকরার মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষায় গেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যক্রম, কল লিস্ট ও মেসেজের তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রয়োজনে নিজের ফোনও পুলিশের কাছে দিতে প্রস্তুত আছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪১তম ব্যাচের নাবিদ নামের একজনের সঙ্গে ইকরার সম্পর্ক ছিল বলেও ইঙ্গিত দেন আলভী।
পোস্টে আলভী অভিযোগ করেন, ২০১০ সালে আলভী-ইকরা পালিয়ে বিয়ে করার পরও তাকে ডিভোর্স না দিয়েই ইকরার পরিবার তার সম্মতিতে অন্যত্র বিয়ে দিয়েছিল এবং ইকরা বাসরও করেছিল। পরবর্তীতে ইকরা ভুল বুঝতে পেরে তার কাছে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলে তিনি তাকে ক্ষমা করে গ্রহণ করেন।
পোস্টের শেষদিকে আলভী দাবি করেন, উপরের মহলের চাপ ও ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে তিনি মানসিকভাবে চাপে আছেন। ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ উঠলে তা যেন তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে দেখা হয়।


