ছয়টি ঝড়ের পর আবারও নতুন ঝড়ের সংকেত ফিলিপাইনে

ছবি : সংগৃহীত

সাহিল আহমেদ রুদ্র

১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪১ পিএম

আবারও নতুন দুর্যোগের মেঘ ১৭ ডিসেম্বর সকালের আবহাওয়া বার্তা অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরে আরও একটি নতুন নিম্নচাপ দানা বেঁধেছে। ১৮ বা ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে এটি মিন্দানাও বা লুজান দ্বীপে আঘাত হানতে পারে। উদ্ধারকর্মীরা যখন ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে ব্যস্ত, তখনই নতুন এই ঝড়ের সংকেত পুরো ফিলিপাইনকে থমথমে করে দিয়েছে। অনেক এলাকায় স্কুল-কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।এক দুর্যোগ কাটতে না কাটতেই দরজায় কড়া নাড়ছে আরেক ঝড়।টাইফুন ম্যান-ওয়াইয়ের ক্ষত না শুকাতেই নতুন নিম্নচাপের সতর্কতা। ফিলিপাইনের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের নিষ্ঠুর প্রতিশোধ।ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ফিলিপাইনের ৯ মিলিয়ন মানুষের আর্তনাদ।


পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসে হামলা

এর আগে বিগত নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এক মাসের ব্যবধানে একে একে ছয়টি শক্তিশালী টাইফুন। ধ্বংসের এক দীর্ঘ মিছিল। প্রশান্ত মহাসাগরের বুক চিরে ধেয়ে আসা একের পর এক সুপার টাইফুনের তাণ্ডবে এখন এক বিধ্বস্ত জনপদের নাম ফিলিপাইন। 


ধ্বংসের চালচিত্র গত নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া টাইফুনের এই ধারাবাহিকতায় সবশেষ আঘাত হানে সুপার টাইফুন ‘ম্যান-ওয়াই’ (স্থানীয় নাম পেপিটো)। ১৮৫ থেকে ২১০ কিমি গতিবেগের এই ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে দেশটির উত্তর ও মধ্য অঞ্চলের জনপদ। সরকারি তথ্যমতে, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক।

বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও মানবেতর জীবন ফিলিপাইন সরকারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৯০ লাখ (৯ মিলিয়ন) মানুষ সরাসরি এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘরবাড়ি হারিয়েছেন প্রায় ৩ লাখ মানুষ, যারা এখন খোলা আকাশের নিচে বা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কেবল কৃষি ও অবকাঠামোতেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ বিলিয়ন পেসো (১৮০ মিলিয়ন ডলার)। হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি এখন লবণাক্ত নোনা পানির নিচে।

এরই মধ্য দিয়ে আবার নতুন ঝড়ের সংকেত, ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বরের সূর্য যখন ফিলিপাইনের আকাশে উঠছে, তখন লাখ লাখ মানুষের চোখে নতুন এক ঝড়ের আতঙ্ক আর যন্ত্রণার ছাপ।

আর্তনাদ ও অনিশ্চয়তা স্যান পেড্রো গ্রামের এক বাসিন্দা মারিয়া গোমেজ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, "আমরা কি আর কখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব? একটার পর একটা ঝড় আমাদের সব কেড়ে নিল। এখন নতুন ঝড়ের ভয়ে আমরা রাতে ঘুমাতে পারছি না।" আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো ও ইউনিসেফ জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ১৭ লাখ শিশু চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে। খাদ্য, পানীয় জল এবং ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে দুর্গম এলাকাগুলোতে। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে এই বিধ্বস্ত দ্বীপরাষ্ট্রটির দিকে, যেখানে প্রকৃতির নিষ্ঠুর প্রতিশোধে প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি আর ক্ষুধার্ত মানুষের লাইন।

ভূমিধস ও বন্যায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ফিলিপাইনের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলীয় সড়ক যোগাযোগ। বর্তমান স্থিতি নতুন নিম্নচাপের প্রভাবে হাই-অ্যালার্ট জারি। (সূত্র : বিবিসি, আল-জাজিরা)