যে কারণে সংঘাতে জড়াল আফগানিস্তান ও পাকিস্তান

ছবি : সংগৃহীত
২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তান ও আফগান তালেবানের সম্পর্ক এখন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। নব্বইয়ের দশকে ভারতের বিরুদ্ধে কৌশলগত সুবিধা পেতে পাকিস্তানই যে তালেবানের উত্থানে সহায়তা করেছিল, আজ তারাই বন্দুক তাক করেছে ইসলামাবাদের দিকে। কিন্তু কেন ভ্রাতৃপ্রতিম এই দুই দেশের সম্পর্ক গড়ালো যুদ্ধ পর্যন্ত?
ইরানে ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্প
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান পরস্পরের ওপর দোষারোপই এই সম্পর্কের ফাটলকে যুদ্ধে রূপ দিয়েছে। চ্যাথাম হাউস অ্যাসোসিয়েট ফেলো ডক্টর ফারজানা শেখ বলেন, আমি মনে করি, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির পেছনে বড় কারণ হলো আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়া। পাকিস্তানের দাবি আফগান তালেবানরা উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে যারা পাকিস্তানে শরিয়াহ আইন জারি করতে চায়।
পাকিস্তান এতদিন টিটিপি ও আফগান তালেবানকে দুই ভাগে ভাগ করে আসছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দুই তালেবানের মধ্যেই আদর্শগত মিল আছে যা আফগানিস্তানকে টিটিপির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যেতে দিচ্ছে না।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বর্তমান সংঘাতের মূলে কেবল সাম্প্রতিক উগ্রবাদ নয়, বরং সীমানা বিতর্কও কাবুল ও ইসলামাবাদের উত্তেজনাকে বারবার উসকে দিচ্ছে। ড. ফারজানা শেখের ভাষায়, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের আনুষ্ঠানিক সীমানা ডুরান্ড লাইন মেনে নিতে আফগানিস্তানের অস্বীকৃতি। সুতরাং, এটি দুই দেশের মধ্যে একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ কোনো পক্ষের জন্যই সুখকর হবে না। বিশেষ করে পাকিস্তানের পক্ষে নতুন ফ্রন্ট সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। যদিও পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা আফগানিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, লড়াইটি সহজ হবে না; কারণ দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং গেরিলা রণকৌশলে তালেবান যোদ্ধারা অত্যন্ত দক্ষ, যা পাকিস্তানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।


