তারেক রহমানের সমালোচনাকারীরা নিজেকে দর্পণে দেখুন

ছবি : সংগৃহীত
০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত জনাব তারেক রহমান বগুড়া জেলার সন্তান। জনতার জননন্দিত এই জননেতাকে দেখতে গিয়ে দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন অনেকেই। এমন ঘটনা জেলা বিএনপির অনেক নেতার সামনে ঘটলেও প্রতিকার না পাওয়ায় মানুষের মন ক্ষুণ্ন হয়েছে।
জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালিত
বগুড়া জেলার কৃতিসন্তান হিসেবে সুদীর্ঘদিন জেলা শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে অজোপাড়া গ্রামের মানুষের মাঝে ছুটে চলা জনাব তারেক রহমান আগামিদিনের সরকারপ্রধান—এটি শুধু সময়ের ব্যাপার হলেও তিনি বগুড়াবাসীর সন্তান হিসেবে জেলার সর্বস্তরের মানুষকে চেনেন। দলীয় কতিপয় নেতা ও কর্মীর রাজনৈতিক স্বার্থে জনাব তারেক রহমানের আস্থা অর্জনের নামে বাড়াবাড়ির মাত্রা অতিক্রম করেছে গত ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল থেকে জনাব তারেক রহমান হোটেল নাজগার্ডেন ত্যাগের আগ পর্যন্ত।
প্রিয় নেতাকে দেখতে যাওয়া মানুষ ভালোবাসার জন্য গিয়েছেন, লাভের জন্য নয়। তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে সফরসঙ্গী ও নিরাপত্তা প্রদানের নামে অতিউৎসাহীরা।
জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ৫৬ হাজার বর্গমাইল বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের মাঝে একজন। ব্যতিক্রমী প্রার্থী জনাব তারেক রহমান আসন্ন সংসদ নির্বাচনে রাজধানী ঢাকা-১৭ (গুলশান, বনানী, ক্যান্টনমেন্ট) ও বগুড়া-৬ সদর আসন থেকে নির্বাচন করায় ভাগ্যবান ভোটারের তকমা পেয়েছে এলাকার ভোটাররা। অন্যদিকে বাংলাদেশের জননন্দিত জনতা জনাব তারেক রহমান দেশ ও মানুষের একান্ত আপনজন।
তিনি প্রায় মানুষের হৃদয়ে বসবাস করেন বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। তাকে কাছে থেকে দেখার ইচ্ছুক দেশের কোটি কোটি মানুষের মাঝে বগুড়া জেলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি। প্রায় ১৯ বছর পর বগুড়া জেলায় বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের ২৯ জানুয়ারি গমন মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ—স্বাভাবিক ঘটনা।
সুদীর্ঘদিন জনাব তারেক রহমান রিকশা ও পায়ে হেঁটে শহরের অলিগলি থেকে অজোপাড়া গ্রামের মানুষের দ্বারে যাওয়া, তাদের আতিথেয়তা গ্রহণ—যা মানুষের স্মৃতিতে অমলিন। তাই মহান নেতা জনাব তারেক রহমানের হোটেল নাজগার্ডেনে অবস্থানকালে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ, শিশু দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন প্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমানকে এক নজর দেখার জন্য।
মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত জনাব তারেক রহমানের নিরাপত্তা এবং সফরসঙ্গীদের আচরণে ক্ষুব্ধ অসংখ্য মানুষ। কোনো গোপন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কি তারেক রহমানকে নিরাপত্তা প্রদানের নামে গণমানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করারই ষড়যন্ত্র নয় এটি?
সম্প্রতি প্রচারমাধ্যমে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সমালোচনাকারী কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক কর্মী। তারা হয়তো ভুলে গেছেন নিজের পরিচয় ও অবস্থান। জনৈক ব্যক্তি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, লন্ডনে অবস্থানকালে ব্যয়ের অর্থ সম্পর্কে বলেছেন। তিনি হয়তো ভুলে গেছেন—শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে চাকরি এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্মানী ভাতা পেয়েছেন। তার মা দেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী—তার সম্মানী ভাতার টাকা যদি ১৫/২০ জন ৫০ বছর খরচ করে করতে পারবেন হালাল টাকা হিসেবে।
এছাড়াও জনাব তারেক রহমান একজন সফল ব্যবসায়ী। ডেনডি ডাইং-এর স্বত্বাধিকারী হিসেবে দীর্ঘদিন সফল ব্যবসা করেছেন। বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব (প্রথম) থাকা অবস্থায় তিনি সবার উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন—যদি কেউ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে পারে, তাহলে তিনি রাজনীতি করবেন না।
এই প্রতিবেদক নব্বই দশকের পর থেকে দীর্ঘদিন তাকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিল। সেই দীর্ঘ সময়ে কোনো প্রকার প্রশ্নবোধক কোনো কাজ করতে নিজে বা কোনো নেতা বা কর্মীকে করতে দেননি। যদি কোনো নেতা বা কর্মী কোনো তদবিরের সুপারিশ করতেন, তাকে তার নিকটে আসতে দেওয়া হতো না।
জনাব তারেক রহমানের মতো মানুষ অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন—এমন তথ্য ও প্রমাণ কঠোর প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ প্রায় দেড় যুগেও আনতে পারেনি। প্রচারমাধ্যমে নিজের মুখ দেখানোর সুযোগ পাওয়া একজন ব্যক্তি সদা নির্ভীক, পরীক্ষিত দেশপ্রেমিক, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর জনাব তারেক রহমানকে ছোট করার জন্য মিথ্যা ও চরিত্রহননের অপচেষ্টা যদি চলতেই থাকে, তাহলে মানুষের ধৈর্যের বাঁধ যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে।
বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান একজন উদার, উচ্চমনের অধিকারী নেতা। অবৈধ ফখরুদ্দিন- মইনউদ্দিন আহমেদের সরকারের আমলে মামলা-অভিযোগ ছাড়াই রাতের অন্ধকারে আটক, জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার উদ্দেশ্যে উচ্চ ভবনের সিঁড়ি থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তিরা আজ প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে চলাচল করলেও তাদের স্পর্শও করে না কেউ। কারণ উদার আকাশের মতো অসীম, সাগরের মতো গভীর বিশাল মনের অধিকারী জনাব তারেক রহমান তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন।
যার জন্য বাংলাদেশ ও বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ আছেন—নিজের জীবন উৎসর্গ করতে একচুল পিছু হটবেন না। তারা যদি অন্যায়কারীদের নির্মূল করার অনুমতি পেলে একচুল পিছু হটবেন না নির্মূল করবেন প্রকাশ্যেই।
জনাব তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, জেড ফোর্সের প্রধান কমান্ডিং অফিসার, বীর উত্তম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষিত দেশপ্রেমিক বঙ্গমাতা বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র। তিনি দেশের কৃতি সন্তান। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার চেতনায় বিশ্বাসী এই নেতা নব্বই দশকে জিয়া ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নগদ অর্থ, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল, মহিষ মানুষের মাঝে প্রদান এবং স্বনির্ভর হওয়ার পথপ্রদর্শনের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন—যা সমসাময়িক সময়ে বিরল রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদাহরণ।
তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে তার আলোচনা হতে পারে—গণতান্ত্রিক দেশ হওয়ার কারণে। কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে তিনি সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে। তার রাজনৈতিক কর্মনীতি, পরিকল্পনা ও কার্যক্রম একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই নিবেদিত।


